0%

হ্রদের জলরাশি আটকে তৈরি কৃত্রিম জলাধার! ফের বিপুল জল নেমে আসার আতঙ্ক ভুটানে?

ভুটানের সিনতাপু হিমবাহ হ্রদে ফাটলের জেরে বিপুল পরিমাণ জলরাশি নেমেছে উপর থেকে। তবে জলরাশি অবরুদ্ধ হয়ে কৃত্রিম জলাধার তৈরি হয়েছে। সেই বাঁধা সরে গেলে ফের বিপুল জল নেমে আসার আশঙ্কা থাকছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ওই এলাকায় পৌঁছতে তৎপর ভুটান ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি-র বিশেষজ্ঞ দল। সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।

শুক্রবার থেকে আকাশপথে ওই হ্রদ এলাকায় পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার জন্য শনিবার দুপুর সেখানে পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে উপচে পড়া সিনতাপু হিমবাহ হ্রদের জল সম্পূর্ণ এখনও নীচে নামতে পারেনি। লুনানা ও গাংচেন তাগ নদীর মিলনস্থলে তাকতসেমাথাং-এ আটকে গিয়েছে। সিনতাপু হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসার সময় পাহাড়ি ঢালের কাঠ, বড় বড় পাথর এবং মাটি ধুয়ে নিয়ে এসে সেখানে নদীপথ অবরুদ্ধ করে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি করেছে। তাই নিচে সংকোশ নদীর জলস্তর এখনও তেমন না বাড়লেও বিপদ কাটেনি। এমনই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভুটান প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে ওই জল আচমকা নেমে এলে বিপদ দেখা দিতে পারে। ওই কারণে নদী উপত্যকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

জলের তোড়ে ভেসে এসেছে বিশাল বিশাল গাছের গুঁড়ি। ছবি- সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিনতাপু হ্রদ উপচে বিপুল জলরাশি বিকট শব্দে পাথর, মাটি, গাছগাছালি উপড়ে ভাসিয়ে নীচে গাসা জেলায় পড়ে ‘মো চু’ নদীতে নামে। গাসা ও পুনাখাকে বিধ্বস্ত করে। ভুটান প্রশাসনের তরফে জল নামার আগেই সাইরেন বাজিয়ে নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও লণ্ডভণ্ড হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। পুনাখাতে ‘মো চু’ নদী ‘ফো চু’ নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে ‘পুনাৎসাংচু’ নাম নিয়েছে। এই নদী ভারতে প্রবেশ করে ‘সংকোশ নদী হিসেবে পরিচিত। ওই কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সরকারকে সতর্ক করে ভুটান সরকার। কিন্তু আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার রাতারাতি নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরিয়ে নিলেও সঙ্কোশ নদীর জলস্তর তেমন বাড়েনি।

স্বভাবতই রহস্য ঘনিয়েছিল। পরে ভুটানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি দপ্তর জানতে পারে নদীপথ অবরুদ্ধ হয়ে সিনতাপু হিমবাহ হ্রদের বিপুল পরিমাণ জল তাকতসেমাথাং-এ আটকে গিয়েছে। শুরু হয় বিশেষ নজরদারি। শনিবার জানা গিয়েছে, তাকতসেমাথাং-এর উপরে কৃত্রিম হ্রদটির জলস্তর ধীরে ধীরে কমছে। তবে, নীচের দিকে মো ছু এবং পুনাতসাংছু নদী উপত্যকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে সরেজমিনে পরিস্থিতি জানতে ভুটান ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি-র একটি দল সিনতাপু হিমবাহ হ্রদে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা সেখানে গিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন করবে এবং হ্রদটির বাঁধ উপচে জল বেরিয়ে আসার কারণ অনুসন্ধান করবে।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker