0%

পিছিয়ে পড়ে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন! আইএসএলে জয়ের হ্যাটট্রিক মোহনবাগানের

মোহনবাগান: ২ (এরউইন, দ্রাজিচ)
পাঞ্জাব এফসি: ১ (আলফ্রেড) 

জেমি ম্যাকলারেন নেই। মিগুয়েল ফিগুয়েরা নেই। আপুইয়াও খেলছেন না। একের পর এক ফুটবলারের অনুপস্থিতিতে মোহনবাগানকে নিয়ে উদ্বেগ ছিল সমর্থকদের মনে। আইএসএলের প্রথম ম্যাচে হোঁচট খাওয়ার পর টানা দু’টি জয় এলেও সবুজ-মেরুনের খেলায় সন্তুষ্ট ছিলেন না সমর্থকরা। মনবীর সিংদের পারফরম্যান্সে যেন কোথাও ছন্দের অভাব ছিল। দেখা যাচ্ছিল না চেনা মোহনবাগানকে। তাই ফর্মে থাকা পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ‘পরীক্ষা’ ছিল বেশ কঠিন। সেই পরীক্ষাতেই মিলল অ্যাসিড টেস্টে পাশ করার মতো সাফল্য। পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জয় প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিসের দলের। টানা তিন ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে উঠে এল মোহনবাগান।

শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় যুবভারতীতে শুরুতেই ধাক্কা খায় সবুজ-মেরুন। মাত্র ৩ মিনিটে গোল করে পঞ্জাব এফসি-কে এগিয়ে দেন আলফ্রেড প্লানাস। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর ডান পায়ের জোরালো শট জালে জড়িয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে বাগান গোলকিপারের ভুলও দায়ী। সানাথোই সিংয়ের পাস থেকে পাওয়া বলেই গোল করেন আলফ্রেড। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়ে যায় মোহনবাগান। গোল খাওয়ার পর অবশ্য দমে যায়নি মেরিনার্স। ছ’মিনিটে দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করেছিলেন সমির জেলকোভিচ। তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দু’মিনিট পর পাঞ্জাবের মাংলেনথাং কিপগেনের শট রুখে দেয় ‘বিশাল’ হাত। সেই সময় পালটা আক্রমণে বিপজ্জনক দেখাচ্ছিল পঞ্জাবকে।

এর মধ্যেই চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় সাহাল আবদুল সামাদকে। তাঁর পরিবর্তে নামেন অনিরুদ্ধ থাপা। ১৬ মিনিটে সেট পিস থেকে লি এরউইনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও দু’মিনিট পর আর ভুল করেননি তিনি। সমিরের বাড়ানো বল থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে মোহনবাগানকে সমতায় ফেরান এরউইন। সমতা ফেরানোর পর আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় মোহনবাগান। ২৫ মিনিটে বক্সের ডান দিক থেকে এরউইনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট। ৪০ মিনিটে জেলজকোভিচের শট আটকে দেন পঞ্জাব গোলরক্ষক অর্শদীপ সিং। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি সবুজ-মেরুনকে। ৪২ মিনিটে দুরন্ত গোলে দলকে এগিয়ে দেন দেজান দ্রাজিচ। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর ডান পায়ের শট সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। গোলের পাস বাড়িয়েছিলেন এরউইন। এর পরেও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। ৪৩ মিনিটে জেলকোভিচের দূরপাল্লার শট আটকে দেন অর্শদীপ। এরউইনের শটও রুখে দেন পঞ্জাব গোলরক্ষক। ২-১ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় মোহনবাগান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় মেরিনার্সকে। ৪৯ মিনিটে দীপক টাংরির পাস থেকে থাপার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে পঞ্জাবও। ৫৪ মিনিটে মেসি বাউলির শট আটকে দেন মোহনবাগান ডিফেন্ডারেরা। ৫৮ মিনিটে দূরপাল্লার শটে বিশাল কাইথকে পরীক্ষা করেন করিশ সরাম। সেই পরীক্ষায় অবশ্য লেটার মার্কস নিয়ে পাশ মোহনবাগান গোলরক্ষক। ৬৩ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন টাংরি। ফলপ্রসূ ছিল না। ৬৮ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি পঞ্জাব। বক্সের বাইরে থেকে মিকায়েল মালসার ডান পায়ের শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৭৫ মিনিটে নিশ্চিত গোলের সুযোগ মিস এরউইনের। পরক্ষণেই বিশাল বাঁচালেন।

শেষের কোয়ার্টারে একের পর এক আক্রমণে পাঞ্জাবকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে প্যানোসের ছেলেরা। ৮১ মিনিটে মনবীর সিংয়ের পাস থেকে বক্সের ডান দিক দিয়ে শট নিয়েছিলেন লিস্টন কোলাসো। বল চলে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। তিন মিনিট পরেই বক্সের বাঁ দিক থেকে লিস্টনের বাঁ পায়ের শট আটকে দেন পঞ্জাব গোলরক্ষক। ৮৫ মিনিটে জেলকোভিচের পাস থেকে বক্সের বাইরে শট নিয়েছিলেন এরউইন। ৮৭ মিনিটে সেট পিস থেকে পাওয়া বল ধরে বক্সের বাইরে থেকে দীপক টাংরির জোরালো শট লক্ষ্যভ্রষ্ট। সংযুক্তি সময়ের তৃতীয় মিনিটেও মনবীরের পাস থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন লিস্টন। কিন্তু তাঁর শট চলে যায় পোস্টের পাশ দিয়ে। অর্থাৎ বারবার আক্রমণ করেও ব্যবধান বাড়াতে পারল না সবুজ-মেরুন। যদিও এতে জয় আটকায়নি। সব মিলিয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে মোহনবাগান। তবে ভূরি ভূরি সুযোগ নষ্ট চিন্তায় রাখবে বাগান কোচকে। 

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker