১ ঘণ্টায় আগ্রা! দিল্লি-গুয়াহাটি বুলেট ট্রেনের অনুমোদন দিল কেন্দ্র সরকার

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এবার আসতে চলেছে আরও বড় পরিবর্তন। চালু হবে দিল্লি (Delhi) থেকে বারাণসী (Varanasi) হয়ে গুয়াহাটি (Guwahati) পর্যন্ত বিস্তৃত বুলেট ট্রেন করিডর (Bullet Train Corridor)। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের নর্দার্ন করিডরে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই হাইস্পিড রেল পরিষেবা চালু হলে উত্তরপ্রদেশ-সহ উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক শহরের মধ্যে যাতায়াত অনেক দ্রুত হবে। বিশেষ করে দিল্লি থেকে আগ্রা কিংবা কানপুরের মতো শহরে পৌঁছতে আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না।
কোন কোন শহরের উপর দিয়ে যাবে এই বুলেট ট্রেন?
প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করে আগ্রা, কানপুর, লখনউ এবং অযোধ্যার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে এই নর্দার্ন করিডর। এরপর বারাণসী ও পটনা হয়ে বিহার পেরিয়ে শিলিগুড়ির দিকে এগিয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছবে গুয়াহাটিতে। এই ট্রেনটি নিজের যাত্রা শুরু করলে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ এবং অসমের মধ্যে দ্রুত রেল যোগাযোগের নতুন পথ উন্মোচিত হবে। এই করিডরের মাধ্যমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে যাতায়াতের মোট সময় অনেকটাই সাশ্রয় করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দেওয়া সম্ভাব্য সময়ের হিসাব অনুযায়ী,
- দিল্লি থেকে আগ্রা পৌঁছতে লাগবে মাত্র ৫৯ মিনিট। অর্থাৎ এক ঘণ্টারও কম সময়ে রাজধানী থেকে আগ্রা পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে।
- অন্যদিকে, দিল্লি থেকে কানপুর যেতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
- এবং লখনউ পৌঁছতে লাগবে ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট।
- বারাণসী থেকে লখনউ যেতে লাগবে ১ ঘণ্টা ২১ মিনিট।
- এছাড়া বারাণসী থেকে পটনা পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ১ ঘণ্টা।
- দিল্লি থেকে বারাণসীর দূরত্বও বুলেট ট্রেনের মাধ্যমে অতিক্রম করা যাবে ৩ ঘণ্টা ৩৩ মিনিটে।
- এমনকি বারাণসী থেকে প্রয়াগরাজ পৌঁছতে লাগবে মাত্র ৩৩ মিনিট।
সাধারণ মানুষের জন্যও থাকছে সুবিধা
বুলেট ট্রেন কেবল ধনী যাত্রীদের জন্য, এমন ধারণা যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়েও বক্তব্য রেখেছেন রেলমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই পরিষেবার ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে এবং তা বিমানভাড়ার তুলনায় অনেকটাই কম হবে। মধ্যবিত্ত পরিবার, যুবসমাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং MSME ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আগামী কয়েক দশক এমনকি প্রায় এক শতাব্দী দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই করিডর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
“বেবি আর আন্টি দু’জনের ভাব…” তৃণমূল-সিপিএমকে একাসনে বসিয়ে তোপ শুভেন্দুর
অন্যদিকে, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে বারাণসীর কাশী রেলস্টেশনকে নতুন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। নমো সেতুর সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে এই স্টেশনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বারাণসী ও দিল্লির মধ্যে রাত্রিবেলা যাতায়াত আরও সুবিধাজনক করতে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের কথাও জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। সব মিলিয়ে বুলেট ট্রেন করিডর এবং রেলের অন্যান্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করছে রেলমন্ত্রক।



