0%

হরমুজ তালার চাবি লুকিয়ে ইউরেনিয়ামেই, আমেরিকা-ইরান খসড়া চুক্তিতে যুদ্ধ থামার সবুজ সংকেত

হরমুজ তালার চাবি লুকিয়ে রয়েছে ইউরেনিয়ামেই। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা কাটাতে এবার আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চুক্তির এক খসড়া প্রস্তাব সামনে এল। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ‘আল আরাবিয়া ইংলিশ’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, খসড়া চুক্তিতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ইরানের কাছে থাকা উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনও দেশে স্থানান্তরিত করা হবে অথবা তার সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমিয়ে আনা হবে। এর বিনিময়ে প্রাথমিক সমঝোতার সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করতে হবে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহণ হয় হরমুজের পথ ধরে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তালা পড়েছে হরমুজে। যার জেরে আশঙ্কার মেঘ গোটা বিশ্বে। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক সমঝোতায় নানা বিষয় সামনে আসতে শুরু করেছে। রিপোর্ট বলছে, নয়া চুক্তি সম্পন্ন হলে হলে আমেরিকা ইরানের উপর ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। সেক্ষেত্রে নৌ-অবরোধ এবং অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করা হতে পারে। এমনকী দুই পক্ষ যাতে চুক্তি মেনে চলে সেজন্য চিন হতে পারে এই চুক্তির গ্যারান্টার।

চুক্তির লক্ষ্যে আমেরিকার ও ইরানের মধ্যে শীঘ্রই হাই ভোল্টেজ বৈঠক হবে। শুরুতে শোনা যাচ্ছিল ইস্তানবুলে হতে পারে বৈঠক। কিন্তু রিপোর্ট বলছে, ইস্তানবুলের বদলে দোহা, কাতারে সরাসরি বৈঠক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কাতারের একটি দল ইতিমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছে বলে জানা যাচ্ছে। কোনও পক্ষই যাতে ফাঁকি না দেয়, তার জন্য একটি স্বাধীন ভেরিফিকেশন মেকানিজম থাকবে। এক পক্ষ ছাড় দিলে অন্য পক্ষও সমান ছাড় দিয়েছে কি না তা যাচাই করেই পরের ধাপে যাওয়া হবে।

চুক্তি ভঙ্গ বা দেরি হলে যাতে নতুন করে যুদ্ধ না বাধে, তার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে একটি ডিসপুট রিজোলিউশন ম্যাকানিজমের কথাও বলা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাইকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেটা কাতারের মাধ্যমে পৌঁছেছে এবং তেহরান সেটাকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। তবে এখনো এটি খসড়া প্রস্তাব মাত্র, চূড়ান্ত চুক্তি নয়। ট্রাম্পও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে আমেরিকার কোনো তাড়া নেই।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker