0%

২০২৭ সালে আরও বড় গঙ্গাসাগর মেলা! ৫০ শতাংশ বাড়ছে প্রাঙ্গণ

গঙ্গাসাগর মেলা এবার আরও বিশাল রূপ নিতে চলেছে। (Gangasagar Mela)পশ্চিমবঙ্গের এই প্রাচীন তীর্থযাত্রাকে ঘিরে রাজ্য সরকার যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তাতে ২০২৭ সালের মেলায় নতুন…

গঙ্গাসাগর মেলা এবার আরও বিশাল রূপ নিতে চলেছে। (Gangasagar Mela)পশ্চিমবঙ্গের এই প্রাচীন তীর্থযাত্রাকে ঘিরে রাজ্য সরকার যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তাতে ২০২৭ সালের মেলায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। মেলাপ্রাঙ্গণের আয়তন এবার প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে।

এতদিন যেখানে ১২ লাখ বর্গফুট জায়গায় মেলা বসত, সেখানে এবার তা বাড়িয়ে ১৮ লাখ বর্গফুট করা হবে। অর্থাৎ অতিরিক্ত ছয় লাখ বর্গফুট জায়গা যোগ হচ্ছে। এই সম্প্রসারণের মূল উদ্দেশ্য একটাই ভক্তদের সমাগম যাতে আরও নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায়।

আরও দেখুনঃ ফের ঘনাচ্ছে নিম্নচাপ! সপ্তাহান্তে কেমন থাকবে কলকাতা ও জেলার আবহাওয়া?

প্রতি বছর গঙ্গাসাগরে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ভিড় করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তো বটেই, বিদেশ থেকেও অনেক সাধু-সন্ত ও ভক্ত এখানে আসেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জনসমাগম ক্রমশ বাড়ছে। ২০২৭ সালে সেই সংখ্যা আরও রেকর্ড ছুঁতে পারে বলে রাজ্য প্রশাসনের অনুমান। সেই কথা মাথায় রেখেই এই বড় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

শুধু মেলাপ্রাঙ্গণ বাড়ানোই নয়, যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থাও উন্নত করা হচ্ছে। (Gangasagar Mela)নতুন বাস টার্মিনাল তৈরি হচ্ছে, হেলিপ্যাড স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং রাত্রিযাপনের জন্য অতিরিক্ত আবাসন সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে। যাতে দূর থেকে আসা ভক্তরা কোনো অসুবিধায় না পড়েন।

রাজ্য সরকার এখন জাতীয় মেলা স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েও আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি রেল ও সড়ক যোগাযোগ আরও মজবুত করার দাবি তোলা হয়েছে। মুরিগঙ্গা নদীর উপর নতুন সেতু নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই এগিয়ে চলেছে। এই সেতু তৈরি হলে দ্বীপে প্রবেশ আরও সহজ হবে এবং ভিড়ের চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে গঙ্গাসাগরকে আরও আধুনিক ও ভক্তবান্ধব করে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এইসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গঙ্গাসাগর মেলার গুরুত্ব শুধু ধর্মীয় নয়, এটি বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ। মকর সংক্রান্তির দিনে সাগর সঙ্গমে স্নান করে পুণ্য অর্জনের যে প্রাচীন বিশ্বাস, তা আজও লক্ষ লক্ষ মানুষকে টানে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে জনসমাগম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জও বেড়েছে।

সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই এবারের এই বড় পরিকল্পনা। মেলাপ্রাঙ্গণ বড় হলে দোকানপাট, সাধুদের আখড়া, প্রশাসনিক ক্যাম্প এবং চিকিৎসা কেন্দ্রের জন্য আরও জায়গা পাওয়া যাবে। ফলে ভক্তদের চলাফেরা সহজ হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা যাবে।

পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতিও খুব জরুরি। এখনও অনেক পুণ্যার্থীকে লম্বা পথ হেঁটে বা অসুবিধাজনক যানবাহনে চড়ে আসতে হয়। (Gangasagar Mela)নতুন বাস টার্মিনাল এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগ থাকলে সেই সমস্যা অনেকটা কমবে। হেলিপ্যাড থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে বা বিশেষ অতিথিদের জন্য দ্রুত যোগাযোগের সুবিধা মিলবে। রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা বাড়লে অনেকেই আগেভাগে এসে প্রস্তুতি নিতে পারবেন এবং মেলা শেষেও তাড়াহুড়ো করে ফিরতে হবে না। এসব সুবিধা একসঙ্গে কাজ করলে গঙ্গাসাগর মেলা সত্যিই একটি সুষ্ঠু ও আনন্দময় তীর্থযাত্রায় পরিণত হতে পারে।

রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন বিভাগ ইতিমধ্যেই সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছে। কেন্দ্রের সহযোগিতা পাওয়া গেলে কাজের গতি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতীয় মেলা স্বীকৃতি মিললে গঙ্গাসাগরের গুরুত্ব দেশজুড়ে আরও বাড়বে এবং পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সাধু-সন্তদের আগমন বাড়বে, ভক্তরা আরও নিরাপদে আসতে পারবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker