0%

সকালে উঠেই হাত-পা অবশ, কথা জড়িয়ে যাচ্ছে, স্ট্রোকের লক্ষণ নয় তো?

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে গিয়েছিলেন। শরীরে কোনও অসুস্থতার লক্ষণও ছিল না। কিন্তু সকালে ঘুম ভাঙতেই হঠাৎ দেখলেন, হাত-পা নাড়াতে সমস্যা হচ্ছে, কথা জড়িয়ে যাচ্ছে কিংবা কয়েক পা হাঁটতেই শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন। অনেকেই প্রথমে বিষয়টিকে ঘুমের ঘোর কিংবা ভুল ভঙ্গিতে শোওয়ার ফল বলে মনে করেন। কিন্তু এই সামান্য অবহেলাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। কারণ, এমন উপসর্গের নেপথ্যে থাকতে পারে স্ট্রোক। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ধরনের ঘটনাকে বলা হয় ‘ওয়াক-আপ স্ট্রোক’। কীভাবে চিনবেন এই বিপদের সংকেত?

ওয়াক-আপ স্ট্রোক কী ?

রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন, অথচ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা গেল। এই পরিস্থিতিকেই ওয়াক-আপ স্ট্রোক বলা হয়। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ধমনি রক্ত জমাট বেঁধে বন্ধ হয়ে গেলে অথবা কোনও রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হতে পারে। এই ধরনের স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, ঠিক কখন মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে বাধা তৈরি হয়েছে, তা বোঝা যায় না। ফলে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?

স্ট্রোকের লক্ষণ মস্তিষ্কের কোন অংশ আক্রান্ত হয়েছে, তার উপর নির্ভর করে। তবে কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ রয়েছে।

•শরীরের এক দিকের হাত, পা বা মুখ হঠাৎ অবশ কিংবা দুর্বল হয়ে যাওয়া।

•হাসতে বললে মুখের এক দিক বেঁকে যাওয়া।

•কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া।

•হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা দু’টি করে দেখা।

•হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্য হারানো, মাথা ঘোরা।

•আচমকা তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

আরও পড়ুনঃ সবজি রান্নার সময় বারবার পুড়ে যাচ্ছে মশলা? ৫ সহজ কৌশলে মিলবে সমাধান

মুখ না বেঁকলেও কি স্ট্রোক হতে পারে?

অনেকের ধারণা, স্ট্রোক হলেই মুখের এক দিক বেঁকে যাবে কিংবা হাত-পা অবশ হয়ে যাবে। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। মস্তিষ্কের পিছনের অংশ, ব্রেনস্টেম বা সেরিবেলাম আক্রান্ত হলে হঠাৎ মাথা ঘোরা, গিলতে অসুবিধা, দু’টি করে দেখা এবং তীব্র ভারসাম্যহীনতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই মুখের কোনও পরিবর্তন না হলেও এই লক্ষণগুলিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন?

স্ট্রোকের কোনও লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে রোগীকে নিকটবর্তী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। উপসর্গ নিজে থেকে কমে যাওয়ার অপেক্ষা করবেন না। রোগীকে খাবার, জল বা নিজের ইচ্ছায় কোনও ওষুধ দেবেন না। কখন শেষবার তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় দেখা গিয়েছিল, সেই সময়টি চিকিৎসককে জানান। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর লক্ষণ দেখা দিলে আগের রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, স্ট্রোকের চিকিৎসায় প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। যত দ্রুত রোগী চিকিৎসার আওতায় আসবেন, মস্তিষ্কের ক্ষতি কমানোর সম্ভাবনাও তত বাড়বে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker