ভোটের আগেই পঞ্জাবের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল! দল ছেড়ে বিজেপিতে ২ বিধায়ক

চণ্ডীগড়: পঞ্জাবের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল। (AAP MLAs)বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে শাসকদল আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে বিরোধী বিজেপিতে যোগ দিলেন তিন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁদের…
চণ্ডীগড়: পঞ্জাবের রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল। (AAP MLAs)বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে শাসকদল আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে বিরোধী বিজেপিতে যোগ দিলেন তিন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পঞ্জাবের দুই বর্তমান বিধায়ক হরমিত সিং পাঠানমাজরা এবং চেতন সিং জৌরামাজরা।
এছাড়াও আম আদমি পার্টির প্রাক্তন বিধায়ক কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিংও বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। সোমবার দিল্লিতে বিজেপির জাতীয় সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তাঁরা। এই দলবদলকে পঞ্জাবে আপের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষ করে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আরও দেখুনঃ ওমর-নিধির বিয়ে ঘিরে নতুন বিতর্ক, শরিয়তের দোহাই দিয়ে আপত্তি মৌলানার
বিজেপির সদর দফতরে আয়োজিত যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের পঞ্জাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সতীশ পুনিয়া, সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত বীরেন্দ্র সচদেবা-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। রবিবারই আপের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সানৌর কেন্দ্রের বিধায়ক হরমিত সিং পাঠানমাজরা এবং সামানা কেন্দ্রের বিধায়ক চেতন সিং জৌরামাজরা। সোমবার তাঁদের সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেন অমৃতসর উত্তর কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং।
তিনি সোমবারই বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আপ (AAP MLAs)সম্প্রতি ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ৪০ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছে। তার ঠিক পরেই এই দলবদলের ঘটনা ঘটেছে। যদিও প্রথম তালিকায় সামানা এবং সানৌর, কোনও কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর আপ সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং। তাঁর বক্তব্য, পঞ্জাব বর্তমানে বেকারত্ব, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং অপরাধীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মতো সমস্যার মুখোমুখি। রাজ্যের পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তাঁর কথায়, পঞ্জাব নিজের পরিচয় রক্ষার জন্য লড়াই করছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অপরাধীদের প্রভাব বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। কুনওয়ারের দাবি, রাজ্যে সুশাসন ফিরিয়ে আনা জরুরি এবং বিজেপিই পঞ্জাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারবে।
উল্লেখ্য, কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং একসময় পঞ্জাব পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক ছিলেন। ২০১৫ সালে ফরিদকোটের কোটকাপুরা ও বেহবল কালানে ধর্মগ্রন্থ অবমাননা এবং পুলিশের গুলিচালনার ঘটনা তদন্তের জন্য যে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছিল, তার সদস্য ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ওই ঘটনাগুলির তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি নিয়ে সরব হন এই প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক।
আপ সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছিলেন তিনি। (AAP MLAs)গত বছরের জুন মাসে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য সাসপেন্ড করে আপ। শিরোমণি অকালি দলের নেতা বিক্রম সিং মাজিথিয়ার বিরুদ্ধে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তির মামলায় পঞ্জাব ভিজিল্যান্স ব্যুরোর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব আরও বেড়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।
অন্যদিকে, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্যের কৃষক সমস্যা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন হরমিত সিং পাঠানমাজরা। তাঁর অভিযোগ, পঞ্জাবের কৃষকদের ঋণের বোঝা ক্রমশ বাড়ছে। পাশাপাশি রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, সেখানে যেভাবে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হয়েছে, পঞ্জাবেও বিজেপি সরকার গঠিত হলে একইভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
এদিকে, বিজেপির পঞ্জাব সভাপতি কেওয়াল সিং ধিলোঁ দলবদলকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ঘটনা বলে উল্লেখ করলেও আপ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পঞ্জাবে মাদক সমস্যা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
তাঁর দাবি, রাজ্যের মানুষ আপকে ক্ষমতায় এনে ভুল করেছিলেন এবং আগামী নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে। একই সুর শোনা গিয়েছে বিজেপির মুখপাত্র জয়বীর শেরগিলের বক্তব্যেও। তাঁর দাবি, আপ ছেড়ে নেতাদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা কেবল শুরু। আগামী দিনে আরও বড় সংখ্যায় নেতাকর্মী দল ছাড়তে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।



