শিখ গণহত্যার দিনেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে ইন্ডির! বিস্ফোরক শাহ

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের (Amit Shah)দিল্লি সমাবেশের তারিখ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। চণ্ডীগড়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে ১৯৮৪…
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের (Amit Shah)দিল্লি সমাবেশের তারিখ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। চণ্ডীগড়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে ১৯৮৪ সালের শিখ গণহত্যার স্মরণীয় দিনে সমাবেশ করেছে।
শাহ বলেন, (Amit Shah)দিল্লির ব্যবসায়ীরা বারবার অনুরোধ করেছিলেন সমাবেশ স্থগিত করতে। তাঁরা চিঠি লিখেছেন, তিনবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং মিনতি করেছেন। ব্যবসায়ীদের কথা অনুযায়ী, দিওয়ালির আগে তিন-চার দিনে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। উত্তর ভারতের মানুষ দিল্লির হোলসেল বাজারে মিষ্টি, পটকা, কাপড় ও অন্যান্য জিনিস কিনতে আসেন। সমাবেশের কারণে এই ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
আরও দেখুনঃ ময়দান খালি! রামলীলা ভরাতে ডেকে ডেকে লোক জড়ো করতে হচ্ছে ইন্ডিকে
তবুও কংগ্রেস সেই অনুরোধ রাখেনি। শাহের ভাষায়, তাঁদের সেই দিনেই সমাবেশ করতেই হয়েছিল যে দিনটি শিখ গণহত্যার অন্ধকার দিন। তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর হাজার হাজার শিখ নিহত হয়েছিলেন। রাজীব গান্ধীর ‘বড় গাছ পড়লে মাটি কাঁপে’ মন্তব্যের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অমিত শাহ (Amit Shah)আরও বলেন, বিজেপি আগেই অনুরোধ করেছিল ১, ২ ও ৩ নভেম্বর সমাবেশ না করতে। কারণ এই দিনগুলো শিখ সম্প্রদায়ের জন্য বেদনাদায়ক। তা সত্ত্বেও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশ থেকে নির্দেশ এসেছিল সেই দিনেই সমাবেশ করার।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত ও পাঞ্জাব এই ঘটনা কখনো ভুলবে না। তিনি কংগ্রেসের ওপর অভিযোগ করেন যে তারা শিখদের ক্ষতস্থানে নুনের ছিটে দিয়েছে। সমাবেশকে তিনি ‘ঘৃণার দোকান’ বলেও মন্তব্য করেন।
এদিকে দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আগেই সতর্ক করেছিল যে সমাবেশের কারণে দিওয়ালি মৌসুমের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি চিঠি দিয়ে স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিল। তাঁদের দাবি, রামলীলা ময়দানের আশপাশের বাজারগুলোতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
অমিত শাহের (Amit Shah)এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি ১৯৮৪-এর ঘটনাকে সামনে এনে কংগ্রেসের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশন সম্পর্কিত দাবি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিজেপি সরকার ১৯৮৪-এর মামলাগুলো পুনরায় খুলেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সাজাও হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস শাসনে ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি।
এই বক্তব্যে শাহ কংগ্রেসকে শিখ সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ এনেছেন। সমাবেশের তারিখ নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তি এবং ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ দুই বিষয়ই তিনি তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক বিতর্ক এখন এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।



