0%

লক্ষ লক্ষ শূন্যপদ! বিশ্বের এই ৬ টি দেশে তুঙ্গে ভারতীয় কর্মীদের চাহিদা

সবদিক নিউজ:বিদেশে চাকরির সুযোগ খুঁজছেন বহু ভারতীয় (Indian Workers)। কারও পছন্দ আমেরিকা (America), কারও আবার ব্রিটেন (Britain) বা কানাডা (Canada)। অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরবেও ভারতীয় কর্মীদের চাহিদা রয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, জার্মানিতে প্রতি বছর প্রায় ৯০ হাজার ভারতীয় কর্মীর প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের ছ’টি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মনে রাখা দরকার, বিভিন্ন দেশে মোট কতগুলি শূন্যপদ রয়েছে, তার সঙ্গে ভারতীয়দের জন্য নির্দিষ্ট চাকরির সংখ্যাকে এক করে দেখা ঠিক নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই পরিসংখ্যান সব দেশের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।

বিশ্বের এই ৬ টি দেশে তুঙ্গে ভারতীয় কর্মীদের (Indian Workers) চাহিদা

প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং গবেষণার মতো ক্ষেত্রে আমেরিকায় দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের সুযোগ রয়েছে। মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সেখানে প্রায় ৭৩.৩৫ লক্ষ শূন্যপদ ছিল। আগস্টে তা কমে আনুমানিক ৭১ লক্ষে দাঁড়ায়। বিদেশি পেশাদারদের জন্য এইচ-১বি ভিসা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ভিসা অনুমোদনের সংখ্যা আর মোট কর্মসংস্থানের চাহিদা এক বিষয় নয়। মার্কিন অভিবাসন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবর্ষে অনুমোদিত এইচ-১বি আবেদনের প্রায় ৭১ শতাংশই ছিল ভারতীয়দের। অন্যদিকে, ব্রিটেনেও ভারতীয় কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে সেখানে প্রায় ৭ লক্ষ ৭ হাজার শূন্যপদ ছিল। স্বাস্থ্য পরিষেবা, সমাজকল্যাণ ও শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে কর্মীর চাহিদা রয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় নাগরিকদের নামে প্রায় ১ লক্ষ ২ হাজার ৯০০টি চাকরি নথিভুক্ত হয়েছিল, যা বিদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সর্বোচ্চ (Indian Workers)।

 ডিউটি বিক্রির অভিযোগে নড়েচড়ে বসল স্বাস্থ্যভবন! এবার মুখ দেখিয়েই দিতে হবে হাজিরা

কানাডাতেও বিদেশি কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা, নির্মাণ, কৃষি এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মীর প্রয়োজন মেটাতে দেশটি ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক গতিশীলতা কর্মসূচির আওতায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার এবং অস্থায়ী বিদেশি কর্মী কর্মসূচির আওতায় ৬০ হাজার কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে। অর্থাৎ, মোট লক্ষ্যমাত্রা ২ লক্ষ ৩০ হাজার। তবে এই সংখ্যা শুধুমাত্র ভারতীয়দের জন্য নয়, সব দেশের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। নীতি আয়োগের ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে কানাডায় প্রায় ৫ লক্ষ শূন্যপদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে আমেরিকা ও ব্রিটেনের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলিতেও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে বিভিন্ন সময়ের তথ্য এবং আলাদা আলাদা হিসাবের ভিত্তিতে তৈরি এই পরিসংখ্যানগুলির মধ্যে সরাসরি তুলনা করা উচিত নয়।

এদিকে, রাশিয়াতেও ভারতীয় কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। ২০২৬ সালের ৩ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্যের উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে প্রায় ৭০ হাজার দক্ষ ভারতীয় কর্মী নিয়োগে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। নির্মাণ ও লজিস্টিকস ক্ষেত্রে তাঁদের চাহিদা রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দুই দেশের মধ্যে শ্রমিকদের যাতায়াত নিয়ে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। অন্যদিকে, ভারতীয় কর্মীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় কর্মীকে সেখানে যাওয়ার জন্য অভিবাসন ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৪৩.২৬ লক্ষ ভারতীয় বসবাস করছিলেন। নির্মাণ, হোটেল, পরিবহণ, লজিস্টিকস, অর্থ ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সেখানে কাজের সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের একটি সমীক্ষায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ৫৬ শতাংশ নিয়োগকর্তা কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

 মাধ্যমিকের খাতা মূল্যায়নে কড়া নিয়ম! রিভিউতে নম্বর বাড়লেই জবাব দিতে হবে পরীক্ষককে

সৌদি আরবেও ভারতীয় কর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। বিদেশ মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮১২ জন ভারতীয় কর্মীকে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য অভিবাসন ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ সেখানে প্রায় ২৭.৪৮ লক্ষ ভারতীয় বসবাস করছিলেন। নির্মাণ, কৃষি, হোটেল, খুচরো ব্যবসা এবং গৃহস্থালি পরিষেবা ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন হয়। তবে সৌদি আরবের মোট বিদেশি কর্মীর সংখ্যা ভারতীয়দের সংখ্যা নয়; সেখানে বিভিন্ন দেশের মানুষ কাজ করেন। সব মিলিয়ে, আমেরিকা ও ব্রিটেনে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন পেশার পাশাপাশি রাশিয়ায় নির্মাণ ও লজিস্টিকস এবং উপসাগরীয় দেশগুলিতে পরিষেবা ও নির্মাণ ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে। তবে বিদেশে চাকরির পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসার নিয়ম, যোগ্যতা, বেতন এবং নিয়োগকর্তার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। মনে রাখতে হবে, অভিবাসন ছাড়পত্রের সংখ্যা দিয়ে বিদেশে কর্মরত ভারতীয়দের মোট সংখ্যা বা ভবিষ্যতের চাকরির নিশ্চয়তা নির্ধারণ করা যায় না (Indian Workers)।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker