দীপাবলির আগেই বিষাক্ত দিল্লির বাতাস! এক ধাক্কায় AQI পৌঁছল ৩৪৯-এ

নয়াদিল্লি: দীপাবলির আগেই দূষণের কবলে রাজধানী দিল্লি। সোমবার সকালে শহরের একাধিক এলাকায় দ্রুত বেড়েছে বায়ুদূষণের মাত্রা। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের (CPCB) তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির আইটিও…
নয়াদিল্লি: দীপাবলির আগেই দূষণের কবলে রাজধানী দিল্লি। সোমবার সকালে শহরের একাধিক এলাকায় দ্রুত বেড়েছে বায়ুদূষণের মাত্রা। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের (CPCB) তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির আইটিও এলাকায় বায়ুর গুণমান সূচক বা AQI পৌঁছেছে ৩৪৯-এ। দূষণের এই মাত্রা ‘অতি খারাপ’ শ্রেণিতে পড়ে। উৎসবের আগে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে বৃষ্টি এবং জোরালো হাওয়ার কারণে দূষণের মাত্রা কিছুটা কমেছিল। শুক্রবার দিল্লির AQI নেমে এসেছিল ৬০-এ, যা ‘সন্তোষজনক’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। কিন্তু আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তে শুরু করে দূষণ। শনিবার AQI ছিল ১১৭। রবিবার তা এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়ায় ২৬১-এ। CPCB-র বিকেল ৪টের বুলেটিন অনুযায়ী, রবিবারের ২৪ ঘণ্টার গড় AQI ছিল ২৬১। সন্ধ্যার পরেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। রাত ১১টা নাগাদ সূচক পৌঁছয় ২৯০-এ। গত ১৭ এপ্রিলের পর রবিবারই দিল্লিতে দূষণের এতটা বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে।
রবিবার দিল্লির ৫৯টি নজরদারি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ২২টি কেন্দ্রে বাতাসের গুণমান ছিল ‘অতি খারাপ’। সবচেয়ে বেশি দূষণ ধরা পড়েছে জাহাঙ্গিরপুরীতে। সেখানে AQI ছিল ৩৭৮। এ ছাড়া রোহিণীতে ৩৫২, পাঞ্জাবি বাগে ৩৫১, মুন্ডকায় ৩৩৭, আর কে পুরমে ৩৩৫ এবং চাঁদনি চকে ৩২৮।
পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলির তথ্য বলছে, ৫৭টির মধ্যে ৫০টি জায়গায় দূষণের প্রধান উপাদান ছিল PM2.5। বাকি সাতটি কেন্দ্রে PM10-এর প্রভাব বেশি ছিল।
আরও বাড়তে পারে দূষণ, কী বলছে পূর্বাভাস?
কেন্দ্রের এয়ার কোয়ালিটি আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার ও মঙ্গলবার দিল্লির বাতাসের গুণমান ‘খারাপ’ পর্যায়ে থাকতে পারে। বুধবার পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়ে ‘অতি খারাপ’ শ্রেণিতে পৌঁছনোর আশঙ্কা রয়েছে। পরবর্তী ছ’দিনও দূষণের মাত্রা খারাপ থেকে অতি খারাপের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে।
এরই মধ্যে দূষণে খড় পোড়ানোর প্রভাবও বেড়েছে। দিল্লির বায়ুদূষণ সংক্রান্ত ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার মোট দূষণের ১৮.৫৭ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল খড় পোড়ানো। শনিবার এই হার ছিল ৫.৩৩ শতাংশ।
দূষণ বাড়ার নেপথ্যে আবহাওয়ার পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা কমে যাওয়া, বাতাসের গতি হ্রাস এবং কুয়াশার কারণে দূষিত কণা সহজে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়তে পারছে না। ফলে মাটির কাছাকাছি স্তরেই আটকে থাকছে দূষণ। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৯ ডিগ্রি কম। আবহবিদ নবদীপ দাহিয়া জানিয়েছেন, বাতাসের গতি কমে যাওয়া এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বায়ুপ্রবাহের কারণে দূষিত পদার্থ দীর্ঘক্ষণ বায়ুমণ্ডলে থেকে যাচ্ছে।
দূষণ নিয়ন্ত্রণে কী কী বিধিনিষেধ?
১ নভেম্বর থেকে দিল্লিতে শীতকালীন দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা কার্যকর হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, BS-VI মানের নীচে থাকা দিল্লির বাইরের যানবাহনের রাজধানীতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। পাশাপাশি ধুলো তৈরি হয় এমন ভাঙার কাজ এবং খোলা জায়গায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলিতে ৫০ শতাংশ কর্মীকে সশরীরে হাজির থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বাড়ি থেকে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। তবে জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। শীতের মরশুমে দূষণের প্রকোপ কমাতেই এই পদক্ষেপ।
২০২৭-এর প্রথমেই বাণিজ্যিক রকেট উৎক্ষেপণ! মহাকাশে নতুন ইতিহাস গড়বে স্কাইরুট
হিন্দু ছাত্রীদের ধর্মান্তরের চেষ্টা! লখনউ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপাড়



