0%

কালীপুজোয় নিষিদ্ধ শব্দবাজি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! পুলিশের কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

SOBDIK NEWS: ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শব্দদূষণের কারণে সমস্যায় পড়েন শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। অথচ প্রতি বছরই কালীপুজো ও দীপাবলির সময় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাজারে চলে শব্দবাজির বিক্রি-বাটা। গ্রিন বাজির আড়ালে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি কিংবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বেআইনি লেনদেন, কোনও কিছুই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ (Shankar Ghosh)।

নিষিদ্ধ বাজি নিয়ে কড়া মন্ত্রী শংকর ঘোষ (Shankar Ghosh)

শিলিগুড়িতে পরিবেশ সংক্রান্ত একটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। শহরের পিডব্লুডি ইন্সপেকশন বাংলোয় আয়োজিত ওই আলোচনায় কালীপুজো ও দীপাবলিকে ঘিরে দূষণের আশঙ্কা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য, নিষিদ্ধ বাজির ব্যবসা বন্ধ করতে নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রিন বাজির মোড়কে সাধারণ ক্রেতাদের হাতে নিষিদ্ধ শব্দবাজি তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনলাইনেও বিভিন্ন মাধ্যমে চলছে বেআইনি বিক্রিবাটা। এই পরিস্থিতিতে উৎসবের আগে থেকেই পুলিশি তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সংস্থার সম্পাদক দীপ নারায়ণ তালুকদার বলেন, শব্দবাজির আওয়াজ ৯০ ডেসিবেলের বেশি হওয়ার কথা নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে ‘গ্রিন বাজি’ রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ফাটানোর নির্দেশ রয়েছে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে বাজি বিক্রি নিষিদ্ধ। কিন্তু, বিগত বছরগুলিতে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকাগুলি কার্যকরি করার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখা গিয়েছে।

সংস্থার আর এক কর্মকর্তা অনিমেষ বসুর অভিযোগ, নিষিদ্ধ বাজি চেনার উপায় না জানায় অনেক সময় গ্রিন বাজির নামেই ক্রেতাদের কাছে সেগুলি বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতাল, নার্সিংহোম কিংবা বৃদ্ধাশ্রমের আশপাশেও নিয়মের তোয়াক্কা না করে বাজি ফাটানোর ঘটনা ঘটে। রবিবার থেকে শিলিগুড়িতে চালু হয়েছে বাজিবাজার। শহর থেকে কিছুটা দূরে কাওয়াখালিতে মেলার জন্য অস্থায়ী দোকানঘর তৈরি করা হয়েছে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আটদিন ধরে সেখানে বাজি কেনাবেচা চলবে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এই বাজারে নিষিদ্ধ শব্দবাজির কোনও জায়গা থাকবে না। প্রশাসনের নিয়ম মেনেই পরিবেশবান্ধব গ্রিন বাজি বিক্রি করবেন তাঁরা। ফলে বাজারের উপরেও প্রশাসনের নজরদারি থাকবে কি না, সেদিকেও তাকিয়ে শহরবাসী। পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ বাজির ব্যবসা কিংবা তার ব্যবহার বন্ধ করতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : উৎসবের মরশুমে যাত্রীদের সুখবর, হাওড়া-পাটনা রুটে চলবে ৪টি স্পেশাল ট্রেন

আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শুধু পুলিশি অভিযান চালিয়ে এই সমস্যা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন তিনি। সাধারণ মানুষকেও দায়িত্ব নিতে হবে। নিষিদ্ধ বাজি না কেনা এবং না ফাটানোর বিষয়ে প্রত্যেককে সচেতন হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন মন্ত্রী। প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি জনমত গড়ে তুলতেও মাঠে নামছে পরিবেশ সংস্থাটি। আগামী ৫ নভেম্বর শিলিগুড়িতে একটি সচেতনতামূলক পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। কালীপুজোর আগে নিষিদ্ধ শব্দবাজির রমরমা ঠেকানো এখন শিলিগুড়ি প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এবার শুধু নির্দেশ জারি নয়, বাস্তবে তার প্রয়োগ দেখতে চাইছেন পরিবেশকর্মী থেকে শুরু করে শহরের সচেতন নাগরিকরা।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker