0%

কলার খোসা ফেলে না দিয়ে বাড়িতেই বানান প্রাকৃতিক হেয়ার টনিক

নিজস্ব প্রতিনিধি: লম্বা, ঘন ও ঝলমলে চুলের স্বপ্ন দেখেন না, এমন মহিলা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু দূষণ, অনিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ এবং চুলের সঠিক যত্নের অভাবে অল্প বয়সেই চুল পড়া, রুক্ষতা ও চুলের বৃদ্ধি থমকে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে অনেকেই নামী-দামি হেয়ার প্রোডাক্টের পিছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করেন। অথচ আপনার রান্নাঘরেই রয়েছে এমন একটি উপাদান, যা সাধারণত ব্যবহার করার পর ফেলে দেওয়া হয়! ভাবছেন কী সেটি? উত্তর হল কলার খোসা। অবাক লাগলেও, কলার খোসা দিয়ে বাড়িতেই তৈরি করা যায় প্রাকৃতিক হেয়ার টনিক। কী ভাবে বানাবেন এই টনিক? কী ভাবেই বা ব্যবহার করবেন? রইল সহজ পদ্ধতি।

কেন ব্যবহার করবেন কলার খোসা?

কলার খোসায় রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এই উপাদানগুলি চুলের যত্নে সহায়ক হতে পারে। কলার খোসা জলে ফুটিয়ে সেই জল চুলের পরিচর্যায় ব্যবহার করার একটি ঘরোয়া পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, কলার খোসার জল ব্যবহার করলে চুল দ্রুত লম্বা বা ঘন হবে, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

কীভাবে বানাবেন কলার খোসার হেয়ার টনিক?

এই টনিক তৈরি করতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। বাড়িতে থাকা দু’-তিনটি কলার খোসা এবং দু’কাপ জল দিয়েই তৈরি করতে পারবেন এটি। প্রথমে দু’-তিনটি কলার খোসা ভাল করে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে নিন। এ বার একটি পাত্রে দু’কাপ জল নিয়ে তার মধ্যে কলার খোসার টুকরোগুলি দিয়ে দিন। ১০-১৫ মিনিট মাঝারি আঁচে জল ফুটিয়ে নিন। জল ঠান্ডা হয়ে গেলে ছেঁকে একটি পরিষ্কার পাত্রে ভরে রাখুন। এ বার প্রয়োজনমতো চুলের পরিচর্যায় ব্যবহার করতে পারেন এই জল।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

হেয়ার রিন্স (Hair Rinse) হিসেবে: শ্যাম্পু করার পর কলার খোসা দিয়ে তৈরি জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে পারেন। এতে চুলে সাময়িকভাবে মসৃণ ভাব ও উজ্জ্বলতা আসতে পারে।

হেয়ার স্প্রে হিসেবে: ঠান্ডা করা জল একটি পরিষ্কার স্প্রে বোতলে ভরে স্ক্যাল্পে অল্প করে ব্যবহার করতে পারেন। তবে প্রতিদিন ব্যবহারের আগে ত্বকে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নিন।

হেয়ার মাস্ক হিসেবে: কলার খোসার জলের সঙ্গে অল্প টক দই, অ্যালোভেরা জেল অথবা নারকেল তেল মিশিয়ে হেয়ার মাস্ক তৈরি করতে পারেন। চুলে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক চুলের পরিচর্যায় এই মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্ক্যাল্পের পরিচর্যায়: কলার খোসার জল ব্যবহার করার সময় আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো হাতে স্ক্যাল্পে মালিশ করতে পারেন। এতে সাময়িক আরাম মিলতে পারে। তবে চুল পড়া কমানো বা রক্ত সঞ্চালন বাড়ানোর নিশ্চিত উপায় হিসেবে একে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

খুশকি ও চুলকানির সমস্যা কি কমবে?

স্ক্যাল্পে খুশকি ও চুলকানির সমস্যা থাকলে অনেকেই ঘরোয়া উপায়ের খোঁজ করেন। কলার খোসার জলে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট-সহ কিছু উপাদান থাকলেও খুশকি বা স্ক্যাল্পের সংক্রমণ সারানোর ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়। তাই সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker