কাগজের নোটের দিন শেষ? ১০ ও ২০ টাকায় নতুন চমক আনতে চলেছে RBI

কলকাতা: দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে বাস-অটোয় যাতায়াত, ছোট অঙ্কের লেনদেনে ১০ ও ২০ টাকার নোটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। অথচ বারবার হাতবদল হওয়ার কারণে অল্প দিনেই নোটগুলি…
কলকাতা: দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে বাস-অটোয় যাতায়াত, ছোট অঙ্কের লেনদেনে ১০ ও ২০ টাকার নোটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। অথচ বারবার হাতবদল হওয়ার কারণে অল্প দিনেই নোটগুলি ছিঁড়ে যায়, ময়লা হয়ে যায়। এবার সেই সমস্যার সমাধানে নতুন ধরনের নোট আনার পরিকল্পনা করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। কাগজের বদলে বিশেষ পলিমার উপাদানে তৈরি ১০ ও ২০ টাকার নোট পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নতুন এই নোট দেখতে অনেকটা প্লাস্টিকের মতো হলেও এর বিশেষত্ব শুধু চেহারায় নয়। পলিমার দিয়ে তৈরি হওয়ায় নোটগুলি তুলনামূলকভাবে বেশি মজবুত হবে। জল ও আর্দ্রতার প্রভাবেও সহজে নষ্ট হবে না। ফলে ঘন ঘন নোট ছাপানোর প্রয়োজন কমতে পারে। সেই সঙ্গে মুদ্রণ এবং পুরনো নোট বদলের খরচও কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
১০ ও ২০ টাকার নোট প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের হাতে ঘোরে। বাজারে কেনাকাটা, গণপরিবহণের ভাড়া কিংবা ছোট দোকানে লেনদেন, সব ক্ষেত্রেই এই দুই নোটের ব্যবহার রয়েছে। এত বেশি ব্যবহারের কারণে কাগজের নোট দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেগুলি সরিয়ে নতুন নোট বাজারে আনতে হয়। পলিমার নোট চালু হলে এই সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কতগুলি নতুন নোট তৈরির পরিকল্পনা?
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য ১০ টাকা এবং ২০ টাকার প্রতিটি মূল্যমানের ১০০ কোটি করে পলিমার নোট তৈরি করার কথা রয়েছে। অর্থাৎ, দুই ধরনের নোট মিলিয়ে মোট ২০০ কোটি নোট পরীক্ষার আওতায় আসতে পারে। প্রথমে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এগুলির ব্যবহার ও স্থায়িত্ব খতিয়ে দেখা হবে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে পরবর্তী সময়ে আরও বড় পরিসরে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
২০২৭ সালের এপ্রিল থেকেই কি মিলবে নতুন নোট?
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই নোটগুলির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের হাতে ঠিক কবে নতুন নোট পৌঁছবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও তারিখও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে এখনই বাজারে নতুন নোট আসছে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই।
পুরনো নোট কি বাতিল হয়ে যাবে?
নতুন পলিমার নোট এলেও বর্তমানে চালু থাকা কাগজের ১০ ও ২০ টাকার নোট বাতিল করার কোনও পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন ও পুরনো দুই ধরনের নোটই পাশাপাশি চালু থাকতে পারে। অর্থাৎ, পলিমার নোট বাজারে এলেও আগের নোট দিয়ে কেনাকাটা বা লেনদেনে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
সব মিলিয়ে, পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সফল হলে ছোট অঙ্কের নোট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সাধারণ মানুষের জন্য নোট প্রকাশের সময়সীমা নিয়ে RBI-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, কলকাতার আকাশেও কি নামবে বৃষ্টি?
শিলিগুড়ি পেরিয়ে গুয়াহাটি পর্যন্ত ছুটবে বুলেট ট্রেন! অনুমোদন মোদী সরকারের



