এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর নিয়মে মার্কিন প্রস্তাব, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় পেশাদারদের উপর

ওয়াশিংটন, ২ নভেম্বর : এইচ-১বি ও এল-১ ভিসাধারীদের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে আগের অনুমোদনকে আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুরুত্ব না দেওয়ার প্রস্তাব করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় পেশাদারদের উপর। কারণ, কর্মরত অবস্থায় এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনুমোদন পাওয়া আবেদনকারীদের প্রায় ৮০ শতাংশই ভারতীয় বংশোদ্ভূত।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দফতরের (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত ‘রিমুভিং ডিফারেন্স টু প্রায়র ইউএসসিআইএস ডিটারমিনেশনস অব এলিজিবিলিটি’ শীর্ষক নিয়মের উপর জনসাধারণের মতামত জানানোর সময়সীমা আগামী ১৩ নভেম্বর শেষ হচ্ছে। গত ১৪ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে এই প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে মতামত শুধুমাত্র regulations.gov ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এইচ-১বি, এল-১, ও-১, টিএন, ই এবং পি ভিসার অন্তর্ভুক্ত সমস্ত আই-১২৯ আবেদনপত্রের ক্ষেত্রে আগের অনুমোদনের ভিত্তিতে ছাড় দেওয়ার বর্তমান নিয়ম পরিবর্তন করা হবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একই আবেদনকারী ও একই পরিস্থিতির ক্ষেত্রে আগে অনুমোদিত আবেদনকে সাধারণত পুনরায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে আগের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভুল, পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন অথবা নতুন কোনও নেতিবাচক তথ্য সামনে এলে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়মই বহাল থাকবে।
ইউএসসিআইএস-এর কংগ্রেসে পেশ করা বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবর্ষে প্রায় ৩ লক্ষ ৯৯ হাজার এইচ-১বি আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল। এর মধ্যে ৭১ শতাংশ আবেদনকারীর জন্ম ভারতে।
কর্মরত অবস্থায় ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি-সহ ধারাবাহিক চাকরির জন্য অনুমোদিত প্রায় ২ লক্ষ ৫৮ হাজার আবেদনের মধ্যে প্রায় ২ লক্ষ ৩ হাজার, অর্থাৎ ৭৯ শতাংশই ছিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত কর্মীদের।
ডিএইচএস-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মোট আই-১২৯ আবেদনপত্রের ৭৫ শতাংশেরও বেশি এইচ-১বি ভিসা সংক্রান্ত। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে বছরে প্রায় ২ লক্ষ ৮ হাজার আবেদন প্রভাবিত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। আগের অনুমোদনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নিয়ম তুলে নেওয়া হলে অতিরিক্ত নথি বা তথ্য চেয়ে পাঠানোর (রিকোয়েস্ট ফর এভিডেন্স) হার প্রায় ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এর ফলে বছরে আরও প্রায় ৬ হাজার আবেদনকারীর কাছে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত চার অর্থবর্ষে যেসব আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে, সেগুলির নিষ্পত্তিতে গড়ে ৬৪ দিন বেশি সময় লেগেছে। এর ফলে আবেদনকারী সংস্থাগুলির বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ডলার খরচ হতে পারে বলে অনুমান করেছে ডিএইচএস।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দফতরের যুক্তি, আগের অনুমোদনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বর্তমান নিয়মের ফলে আবেদনকারীর পরিবর্তে ইউএসসিআইএস আধিকারিকের উপর আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কারণ ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব বেশি পড়ে।
এ প্রসঙ্গে ২০২২ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পরিচালিত পরিদর্শনের তথ্য তুলে ধরেছে ডিএইচএস। ওই সময়ে প্রায় ২২ শতাংশ পরিদর্শিত ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন ও জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৮ থেকে ২০২০ অর্থবর্ষে আগের অনুমোদনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নিয়ম চালু না থাকাকালীন এই হার ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ।
তবে ডিএইচএস স্পষ্ট করেছে, এই প্রস্তাবের অর্থ এই নয় যে ইউএসসিআইএস আধিকারিকরা আগের অনুমোদন বিবেচনা করতে পারবেন না। বরং আগের অনুমোদনকে প্রাথমিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়াই এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য।
একই সঙ্গে দফতর স্বীকার করেছে, বহু নিয়োগকর্তা ও কর্মী আমেরিকায় তাঁদের চাকরি এবং বৈধভাবে বসবাস চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিকল্পনা তৈরি করে থাকতে পারেন।
উল্লেখ্য, আগের অনুমোদনকে গুরুত্ব দেওয়ার এই নীতিতে অতীতেও একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। ২০০৪ সালে এই নীতি চালু হয়। ২০১৭ সালে তা বাতিল করা হয় এবং ২০২১ সালে পুনরায় চালু করা হয়। পরে ২০২৪ সালে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।



