‘উৎসব কীভাবে পালন করতে হয়, তা মানুষ জানেন’, দূষণমুক্ত দীপাবলি প্রচার নিয়ে দিয়া মির্জাকে নিশানা বিজেপি-শিবসেনার

মুম্বই, ২ নভেম্বর : বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের (বিএমসি) দূষণমুক্ত দীপাবলি প্রচারাভিযানে অংশ নেওয়ায় বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে নিশানা করল বিজেপি ও শিবসেনা। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য, দেশের মানুষ জানেন কীভাবে দীপাবলি পালন করতে হয়। তাঁদের এ বিষয়ে নতুন করে কাউকে পরামর্শ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
মুম্বই বিজেপির সভাপতি অমিত সাতাম দিয়া মির্জাকে এই প্রচারাভিযানে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করার পর বিএমসি তার প্রচারমূলক ভিডিওটি সরিয়ে দেয়। এরপরই পুরনিগমের সচেতনতামূলক প্রচারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে বলেন, দিয়া মির্জা মুসলিম সম্প্রদায়ের হলেও এই বিষয়টি কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
তিনি বলেন, “দিয়া মির্জা একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের। তবে এটি কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের বিষয় নয়। ভারত এমন একটি দেশ, যেখানে ড. বি আর আম্বেদকরের দেওয়া সংবিধান প্রত্যেক ধর্মকে নিজস্ব উৎসব পালনের অধিকার দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মুসলিমরা যেমন ঈদ উদযাপন করেন এবং রমজান পালন করেন, তেমনই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও তাঁদের উৎসবে অংশ নেন এবং মুসলিমদের ধর্মীয় রীতিনীতিকে সম্মান করেন। একইভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দীপাবলি পালন করেন। আতশবাজি না ফাটালে দীপাবলির কিছুটা তাৎপর্য কমে যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত দূষণের বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।”
বিজেপির বিধান পরিষদ সদস্য শ্রীকান্ত ভারতীয় বলেন, দীপাবলি উদযাপন নিয়ে মন্তব্য করার আগে দিয়া মির্জার নিজের সম্প্রদায়ের রীতিনীতি সম্পর্কে আত্মসমীক্ষা করা উচিত।
তিনি বলেন, “আমরা কোনও সম্প্রদায়, ধর্ম বা উপাসনার পদ্ধতির বিরোধী নই। তবে তিনি যে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেই সম্প্রদায়ের মধ্যে কী ঘটে, তা নিয়েও তাঁর আত্মসমীক্ষা করা উচিত। অন্তত একবার তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি বোঝা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “এই দেশের মানুষ জানেন কীভাবে দীপাবলি পালন করতে হয়। তাঁদের কাউকে শেখানোর প্রয়োজন নেই। ভারতের হিন্দুরা বহু বছর ধরে, এমনকী শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিবেশ নিয়ে সচেতন। এটি আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। কোথায় এবং কীভাবে আতশবাজি ফাটানো উচিত, তা দিয়া মির্জার আমাদের বোঝানোর দরকার নেই।”
শিবসেনার জাতীয় মুখপাত্র শায়না এনসি বলেন, দীপাবলির সময় দূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতন থাকার গুরুত্ব প্রত্যেক নাগরিকই বোঝেন।
তাঁর কথায়, “দিয়া মির্জা, যাঁর নামের অর্থই আলো, তাঁর জানা উচিত আলোর উৎসব বলতে দীপাবলিকেই বোঝায়। দূষণের কথা মাথায় রাখা এবং আতশবাজি ফাটানো এড়িয়ে চলার প্রয়োজনীয়তা প্রত্যেক নাগরিক বোঝেন। আমাদের নিরাপদ থাকতে হবে, কারণ জীবন ও স্বাস্থ্যই সবার আগে।”
উল্লেখ্য, মুম্বইয়ে বায়ুদূষণ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে বিএমসি নাগরিকদের আতশবাজি না ফাটানো এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে দীপাবলি উদযাপনের আবেদন জানিয়েছিল।
এই প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে দিয়া মির্জা, মাধুরী দীক্ষিত এবং ক্রিকেটার অজিঙ্ক রাহানের মতো একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দিয়ে ভিডিও বার্তা রেকর্ড করিয়েছিল পুরনিগম। সেই বার্তায় দূষণমুক্তভাবে উৎসব পালনের আবেদন জানানো হয়েছিল।
কিন্তু প্রচারে দিয়া মির্জাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করেন মুম্বই বিজেপি সভাপতি অমিত সাতাম। দীপাবলি কীভাবে পালন করতে হবে, তা নিয়ে বহিরাগতদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এক্স-এ একটি পোস্টে সাতাম লেখেন, “দীপাবলি কীভাবে পালন করতে হয়, তা নিয়ে দিয়া মির্জার কাছ থেকে আমাদের কোনও উপদেশের প্রয়োজন নেই। আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত।”
সাতামের সমালোচনার পর বিএমসি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দিয়া মির্জার ভিডিওটি সরিয়ে দেয়। এরপরই পুরনিগমের সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়।
— আইএএনএস



