0%

পার্বত্য এলাকায় বাড়ছে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন পাইলটরা

নয়াদিল্লি, ২ নভেম্বর : দেশের পার্বত্য অঞ্চল, বিশেষ করে হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ক্রমবর্ধমান হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা রুখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ চাইল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস (এফআইপি)। দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছে পাইলটদের এই সংগঠন।

গত ৩০ অক্টোবর উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার জোশীমঠ এলাকায় ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ছয়জন আরোহীর সকলের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেয় এফআইপি।

সংগঠনের বক্তব্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উত্তরাখণ্ড-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি ঘটনায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বারবার এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায় হেলিকপ্টার পরিচালনার বর্তমান নিয়ম, পাইলটদের প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও মূল্যায়ন, পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ উড়ানপথ, হেলিপ্যাডের পরিকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির নজরদারি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।

এফআইপি মনে করছে, দেশের হেলিকপ্টার পরিষেবা, বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে উড়ান পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)-র একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ২০২৫ সালের অগস্টে পরিবহণ, পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৩৮০তম প্রতিবেদনেও চারধাম যাত্রার সময় একাধিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

কেদারনাথ এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে এফআইপি জানিয়েছে, সেখানকার ভূপ্রকৃতি সম্পূর্ণ পাহাড়ি। সরু ও খাড়া উপত্যকার মধ্যে দিয়ে হেলিকপ্টার চালাতে হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮,০০০ থেকে ১২,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়ান পরিচালিত হয়। ডিজিসিএ-র নিয়ম অনুযায়ী এই এলাকাকে ‘প্রতিকূল পরিবেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এখানে জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে হেলিকপ্টার অবতরণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায় না।

সংগঠনের আরও অভিযোগ, অধিকাংশ হেলিপ্যাডে অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য একমুখী পথ বা ইউনিডিরেকশনাল অ্যাপ্রোচ-টেকঅফ ফানেল রয়েছে। অবতরণ ও উড্ডয়নের পথের মধ্যে ন্যূনতম ১৫০ ডিগ্রি ব্যবধান বজায় রাখার নিয়মও অনেক ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয় না।

এর ফলে অনেক সময় হেলিকপ্টারকে পিছন দিকের বাতাস বা টেলউইন্ডের মধ্যে উড্ডয়ন কিংবা অবতরণ করতে হয়। বেশি উচ্চতায় ইঞ্জিনের ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং হেলিকপ্টারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে জানিয়েছে এফআইপি।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, চারধাম যাত্রায় ব্যবহৃত অধিকাংশ হেলিকপ্টারই এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট এবং পারফরম্যান্স ক্লাস-৩ শ্রেণির। এগুলি শুধুমাত্র ভিজ্যুয়াল ফ্লাইট রুলস (ভিএফআর) অনুযায়ী উড়তে সক্ষম। এসব হেলিকপ্টারে অটোপাইলট বা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের রাডার নেই এবং একজন পাইলটের মাধ্যমেই উড়ান পরিচালিত হয়।

এফআইপির বক্তব্য, পারফরম্যান্স ক্লাস-৩ শ্রেণির হেলিকপ্টারে উড়ানের যে কোনও পর্যায়ে ইঞ্জিন বিকল হলে জরুরি অবতরণ বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রতিকূল পাহাড়ি পরিবেশে সবসময় নিরাপদে অবতরণের মতো জায়গা পাওয়া যায় না। তাই এই ধরনের হেলিকপ্টার চারধাম অঞ্চলে পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযুক্ত।

সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের তুলনায় হেলিকপ্টার পরিচালনার ঝুঁকি ও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। কম উচ্চতায় উড়ান, সীমিত জায়গায় অবতরণ, দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়া, পাহাড় ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কাছাকাছি চলাচল এবং কঠিন পরিস্থিতিতে উড্ডয়ন-অবতরণ করতে হয়।

বিশেষ করে হিমালয় অঞ্চলে মেঘের গঠন, পাহাড়ি বায়ুপ্রবাহ, নিম্নমুখী বায়ুর চাপ, ঝোড়ো হাওয়া, উইন্ড শিয়ার এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হেলিকপ্টার চলাচলকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস।

–আইএএনএস

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker