৩২১ জন নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নিল শুভেন্দুর সরকার

সবদিক নিউজ: বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলানোর কারিগর ছিলেন তাঁরাই। অথচ বিজয়ের আনন্দ দেখে যেতে পারেননি। সোমবার নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই ৩২১ জন ‘শহিদ’ বিজেপি কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বলি হওয়া এই পরিবারগুলির সামাজিক ও আর্থিক সমস্ত দায়িত্ব এবার থেকে বহন করবে নবনির্বাচিত রাজ্য সরকার।
প্রথম ক্যাবিনেটেই আবেগের ছোঁয়া
সোমবার পাঁচ মন্ত্রীকে নিয়ে নবান্নের ১৪ তলায় প্রথম বৈঠকে বসেছিলেন শুভেন্দু। বৈঠকের শুরুতেই নিহত কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “যাঁদের আত্মবলিদানের মাধ্যমে আজ রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁদের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ। এই ৩২১ জন কর্মীর পরিবারের বিচারের পাশাপাশি তাঁদের ভবিষ্যতের দায়িত্বও আমাদের।” উল্লেখ্য, ২০২১-এর ভোট পরবর্তী হিংসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে ঘরছাড়া ও হামলার শিকার হওয়া কর্মীদের কথা মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি পূরণ: বয়সের সীমায় ছাড়
নিহত কর্মীদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি বাংলার তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। নির্বাচনী প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরিতে আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানো হবে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন থেকে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় আরও ৫ বছর বাড়তি সুযোগ পাবেন চাকরিপ্রার্থীরা।
সীমান্ত সুরক্ষা ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জোয়ার
শহিদ পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি ক্যাবিনেটে আরও ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে কাঁটাতারের জন্য জমি হস্তান্তর করা হবে। এতদিন বাংলায় ব্রাত্য থাকা ‘আয়ুষ্মান ভারত’, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ এবং ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’র মতো প্রকল্পগুলিতে যুক্ত হলো রাজ্য। এছাড়াও বঙ্গে আজ থেকেই কার্যকর হলো ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’, যা এতদিন অসাংবিধানিকভাবে আইপিসি (IPC) হিসেবে চলছিল বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রথম দিনের পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিল, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার কেবল শাসন নয়, বরং কর্মীদের আবেগ এবং মানুষের অভাব-অভিযোগ মেটাতেই প্রথম অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ৩২১টি পরিবারে বিচার ও সহায়তার এই আশ্বাস রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।



