৪০ কোটির অফারেই মমতার সঙ্গে গদ্দারি! মহুয়ার দাবিতে শোরগোল, মানহানির মামলা ঠুকতে চান কাকলি-শতাব্দীরা

সবদিক নিউজ: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অলিন্দে এবার এক চরম নাটকীয় মোড়! তৃণমূলের টিকিট জিতে দিল্লির সংসদে যাওয়া ২০ জন দলত্যাগী সাংসদ এবার কৃষ্ণনগরের ফায়ারব্র্যান্ড তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে একযোগে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছেন। অতি সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দল এবং সংসদীয় দলে এক নজিরবিহীন ভাঙন দেখা দিয়েছে। লোকসভার ২৮ জন ঘাসফুল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতা-অভিষেকের হাত ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ত্রিপুরার দল এনসিপিআই (NCPI)-তে, যা মূলত বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোটের শরিক। এই পরিস্থিতিতে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ওই ২০ জন সাংসদ মহুয়ার একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যের বিরুদ্ধে এবার ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটেছিল সমাজমাধ্যমে মহুয়া মৈত্রের একটি মারাত্মক পোস্টকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার সাংসদদের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকার বিনিময়ে একনাথ শিন্ডে শিবিরে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন সঞ্জয় রাউত। সেই পোস্টটি রি-শেয়ার করে মহুয়া বাংলার দলত্যাগী সাংসদদের তীব্র কটাক্ষ করে লেখেন, “মাত্র ১৫ কোটি? এত সস্তায় কেন যাচ্ছেন? আমার বিশ্বাস, আমাদের সাংসদেরা চার কোটি টাকা করে অগ্রিম নিয়েছেন। বাকি ৩৬ মাসের জন্য এক কোটি করে নিচ্ছেন।” অর্থাৎ, মহুয়ার দাবি অনুযায়ী, এক একজন সাংসদ দল ছাড়ার জন্য মোট ৪০ কোটি টাকা করে নিয়েছেন!
মহুয়ার এই ‘৪০ কোটির’ খোঁটা এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্রমাগত অবমাননাকর মন্তব্য করাকে কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না দলত্যাগীরা। এনসিপিআই-এর ব্যানারে এই নিয়ে সম্প্রতি একটি হাইভোল্টেজ ভার্চুয়াল বৈঠক সেরেছেন বিদ্রোহীরা। বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, সেই বৈঠকে ২০ জন সাংসদই উপস্থিত ছিলেন এবং মহুয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়েছে। এই বিষয়ে বীরভূমের তারকা সাংসদ শতাব্দী রায় স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, “আমরা মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছি। আপাতত এটুকুই বলতে পারব।”
বিদ্রোহী সাংসদদের এই তালিকায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব, সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠান এবং পার্থ ভৌমিকের মতো হেভিওয়েট ও তারকা মুখেরা রয়েছেন। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দল ভাঙার পর লোকসভাতেও মমতার পাশে এখন হাতে গোনা কয়েকজন সাংসদই পড়ে রয়েছেন, যার মধ্যে অন্যতম মহুয়া। দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে মহুয়ার এই কড়া আক্রমণ এবার আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে, যা ২০২৬ সালের বঙ্গে এক চরম আইনি ও রাজনৈতিক যুদ্ধ ডেকে আনতে চলেছে।



