0%

‘ঈশ্বর সবকিছু সমান করছেন ভেবেছিলাম’, নিজের ভুল মানলেন জাহ্নবী

দীর্ঘদিন ধরেই বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর, ‘স্টার কিড’ তকমার কারণে ট্রোলিং এবং সমালোচনার মুখে পড়েছেন। জন্মগত সুবিধা পাওয়া এবং সহজে সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ বহুবার উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে সম্প্রতি তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, এই বিশেষাধিকার সম্পর্কে তিনি এখন অনেক বেশি সচেতন, আর এই উপলব্ধিই তাঁকে আরও মাটির কাছাকাছি এবং কৃতজ্ঞ করে তুলেছে।

Raj Shamani-এর সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি তিরুপতি বালাজি ( Tirupati Balaji Temple ) দর্শনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, “তিরুপতি এমন একটি জায়গা, যেখানে আমি যেতে খুব ভালোবাসি। সেখানে ভিআইপি দর্শনের সুবিধা আছে, আর আমি সাধারণত সেটাই নিই, কারণ এটি বেশি সুবিধাজনক। নিরাপত্তার দিক থেকেও এটাই আমার যাওয়ার একমাত্র উপায়। তবে আমি জানি, সেখানে অসংখ্য মানুষ রয়েছেন, যারা এই দর্শনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, অথচ ভগবান বালাজির সামনে আমার মতো সময় পান না।”

রাহুলের মৃত্যুতে ম্যাজিক মোমেন্টসকে বয়কট! বন্ধ ‘চিরসখা’, ফুঁসছেন রাজা, বেকার ভাতার খোঁজ করছেন ভিভান?

Advertisment

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, “আমার মতো অবস্থানে থাকা অনেকের কাছেই এটি এক ধরনের বিশেষাধিকার। এই জীবন আমি পেয়েছি- আমি চাইলে তা উপভোগ করতে পারি, কৃতজ্ঞ থাকতে পারি এবং এগিয়ে যেতে পারি। কিন্তু আমি মনে করি, যদি আমি বালাজির দর্শনে যাই, তাহলে আমাকে সেই ৩,৫০০ সিঁড়ি উঠে যেতে হবে, আমাকে তাঁর দর্শনের অধিকার অর্জন করতে হবে। শুধু জন্মগত সুবিধার জোরে এত সহজে দর্শন করা- এটা আমি মেনে নিতে পারি না।”

মায়ের মৃত্যু প্রসঙ্গে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন জাহ্নবী। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবিকে ( Sridevi ) কে হারানোর পর তিনি একসময় ভাবতেন, জীবনের প্রাপ্তি ও বিলাসিতার জন্য এটি যেন এক ধরনের ভারসাম্য। তিনি বলেন,“মায়ের মৃত্যুর আগ পর্যন্তও আমার জীবনে অনেক কিছুই একেবারে সহজ ছিল না। কিন্তু আমি এতটাই কৃতজ্ঞ থাকতে অভ্যস্ত ছিলাম যে, এটা বুঝতেই পারিনি- প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটা যাত্রা আছে, আর আমার পথটাও ততটা সহজ ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “তখন আমার মনে হতো, ঈশ্বর বা কোনও উচ্চতর শক্তি যেন সবকিছু সমান করে দিচ্ছেন, তিনি আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন, আর এখন কিছু কেড়ে নিচ্ছেন। কিন্তু এই ভাবনাটা ভুল ছিল। আমি বিষয়টাকে নিজের দিকে টেনে নিয়েছিলাম, যা ঠিক নয়। তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না, তিনি নিজেও একজন স্বতন্ত্র মানুষ ছিলেন।” মায়ের জীবনের কঠিন স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি সেই যাত্রা খুব কাছ থেকে দেখেছি। মা যখন ছিলেন, তখন অনেকেই তাঁর প্রতি সদয় ছিলেন না। তাঁকে ‘হোমব্রেকার’ বলা হতো, আরও অনেক কটু কথা শোনানো হতো। এসব তাঁর মনে প্রভাব ফেলেছিল, তবে সময়ের সঙ্গে মানুষ প্রয়াতদের প্রতি অনেকটাই সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে।”

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker