0%

প্রতিরক্ষায় ঐতিহাসিক বদল! এবার বেসরকারি সংস্থাতেও তৈরি হবে ভারতের স্টেলথ যুদ্ধবিমান

সবদিক নিউজ:ভারতের (India) প্রতিরক্ষা শিল্পে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। এতদিন পর্যন্ত দেশীয় যুদ্ধবিমান নির্মাণের দায়িত্ব মূলত কেন্দ্রীয় সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা হ্যালের হাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্র। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে, দেশের মাটিতে প্রথমবার বেসরকারি সংস্থাগুলিও উন্নত যুদ্ধবিমান তৈরির কাজে অংশ নেবে। শুধু তাই নয়, ভারতের প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার জেট তৈরির দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, এর ফলে শুধু যুদ্ধবিমান উৎপাদনের গতি বাড়বে না, বরং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পও আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।

এবার বেসরকারি সংস্থাতেও তৈরি হবে ভারতের (India) স্টেলথ যুদ্ধবিমান

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে তৈরি হবে পাঁচটি অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট বা AMCA। এই যুদ্ধবিমান হবে সম্পূর্ণ স্টেলথ প্রযুক্তিনির্ভর, অর্থাৎ শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে ধরা পড়বে না। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রকল্পে সরাসরি হ্যালকে দায়িত্ব না দিয়ে তিনটি বেসরকারি সংস্থাকে দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছে টাটা গ্রুপ, লারসেন অ্যান্ড টুবরো এবং ভারত ফোর্জ। সংস্থাগুলিকে জানাতে বলা হয়েছে, কীভাবে তারা যুদ্ধবিমান তৈরি করবে, প্রযুক্তিগত কাঠামো কী হবে এবং কত দ্রুত উৎপাদন সম্ভব। আগামী বছরের প্রথম দিকেই যুদ্ধবিমানের প্রোটোটাইপ বা নমুনা তৈরির কাজ শুরু হতে পারে বলে খবর। কেন্দ্রের আশা, ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যেই প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রস্তুত হয়ে যাবে।

 ১২ বছর পর মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বিজয়! কি নিয়ে আলোচনা হল নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর

এই প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে ডিআরডিও। যুদ্ধবিমানের নকশা, প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক নজরদারির দায়িত্ব থাকবে তাদের হাতেই। অর্থাৎ যুদ্ধবিমান তৈরি করবে বেসরকারি সংস্থা, কিন্তু পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে সরকারি গবেষণা সংস্থার তত্ত্বাবধানে। সূত্রের খবর, অন্ধ্রপ্রদেশে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হতে পারে। অত্যাধুনিক এই বিমান ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হবে এবং প্রায় ৭ হাজার কেজি অস্ত্র ও সরঞ্জাম বহন করতে পারবে। একইসঙ্গে এতে যুক্ত থাকবে উন্নত সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর যুদ্ধ প্রযুক্তি এবং আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফল হলে ভারত শুধু আত্মনির্ভরই হবে না, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও যুদ্ধবিমান রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিনের হাতেই রয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার প্রযুক্তি। ভারত সফলভাবে এই বিমান তৈরি করতে পারলে বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে এই বিশেষ ক্লাবে জায়গা করে নেবে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সামরিক মহলেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে ভারতের এই পদক্ষেপকে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি খবর ছড়ায়, চিনে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে পাকিস্তানের সেনা আধিকারিকেরা এবং ভবিষ্যতে ইসলামাবাদ সেই প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান কিনতে পারে। এর জবাব হিসেবেই ভারত নিজেদের উন্নত যুদ্ধবিমান প্রকল্পে আরও গতি আনছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Now, India's stealth fighter jets will also be manufactured in the private sector.

 বন্দে ভারত, বুলেট ট্রেনের পর এবার এয়ার ট্রেন! ভারতের প্রথম ড্রাইভারলেস ট্রেন চালু হতে চলেছে এই শহরে

এরই মধ্যে ভারত (India) ৪.৫ জেনারেশনের ১১৪টি রাফালে যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনাও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের প্রযুক্তিতে উন্নত যুদ্ধবিমান তৈরি করাই এখন কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই প্রথমবার বেসরকারি শিল্পকে সরাসরি প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূলধারায় আনা হচ্ছে। আমেরিকা, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মতো দেশে বহুদিন ধরেই বেসরকারি সংস্থাগুলি যুদ্ধবিমান তৈরি করে আসছে। ভারতে এতদিন সেই ব্যবস্থা ছিল না। ফলে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের এই মডেল সফল হলে আগামী দিনে সাবমেরিন, ড্রোন, মিসাইল ও অন্যান্য অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতেও বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker