মাঝ সমুদ্রেই শত্রুদের বিনাশ করবে MARCOS! আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে বড় পদক্ষেপের পথে ভারতীয় নৌবাহিনী

সবদিক নিউজ: আত্মনির্ভরতাকে পাথেয় করেই বর্তমান সময়ে সামরিক ক্ষেত্রে একের পর এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ভারত। যার ফলে প্রত্যক্ষভাবে শক্তিশালী হচ্ছে সেনাবাহিনী। সেই রেশ বজায় রেখেই এবার ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের অংশ হিসাবে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy) আবারও মিনি সাবমেরিনের পরিকল্পনার দিকে এগিয়ে চলেছে। মূলত, মিনি সাবমেরিনগুলি উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু করে দ্বীপ অঞ্চল এবং সংবেদনশীল সামুদ্রিক অঞ্চলে বিশেষ অভিযানের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীকে একটি উল্লেখযোগ্য কৌশলগত সুবিধা দেবে। সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ২ টি মিনি সাবমেরিন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে ভারতীয় নৌবাহিনী ৫ টি বা তারও বেশি এই ধরণের মিনি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
বড় পদক্ষেপের পথে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy):
মূলত, বিশেষ সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা জোরদার করার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী ২ টি মিনি-সাবমেরিন (মিজেট সাবমেরিন) ক্রয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে নৌবাহিনী বেশ কয়েকটি ইউরোপিয় প্রতিরক্ষা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। এই সাবমেরিনগুলির মাধ্যমে নৌবাহিনীর স্পেশাল ফোর্স MARCOS (মেরিন কমান্ডো) শত্রু অঞ্চলের গভীরে গোপন অভিযান, গোয়েন্দা মিশন এবং বিশেষ অভিযান সম্পন্ন করবে।

সূত্র অনুযায়ী, এই মিনি সাবমেরিনগুলি ‘সুইমার ডেলিভারি ভেহিক্যাল’ (SDV) বা ‘স্পেশাল অপারেশন্স ভেসেলস’ (SOV) হিসাবে কাজ করবে। এগুলির সাহায্যে মার্কোস কমান্ডোরা সমুদ্রের ভেতরে নিঃশব্দে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছতে, অভিযান সম্পন্ন করতে এবং কোনও সূত্র না রেখেই ফিরে আসতে সক্ষম হবে।
ভাঙলেন ১৯ বছরের রেকর্ড! একই টুর্নামেন্টে ২ বার কার্লসেনকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ
মিনি সাবমেরিনগুলি কেমন: জানিয়ে রাখি যে, মিনি সাবমেরিনগুলি সাধারণ যুদ্ধ সাবমেরিনের চেয়ে অনেক ছোট হয়। এগুলির ওজন ১৫০ থেকে ৫৫০ টনের মধ্যে হতে পারে এবং এগুলি ৮ থেকে ২০ জন কমান্ডো বহন করতে পারে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সাবমেরিনগুলিতে কম শব্দ সৃষ্টিকারী প্রযুক্তি, উন্নত সেন্সর এবং অগভীর জলে সহজে চলাচল করার ক্ষমতা রয়েছে। ২০০৮ সালের মুম্বাই জঙ্গি হামলার পর ভারতে এই ধরনের সাবমেরিনের প্রয়োজনীয়তা প্রথম অনুভূত হয়। তবে, ২০০৯ সালে শুরু হওয়া কেনার প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন প্রযুক্তিগত এবং অংশীদারিত্ব-সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতার কারণে আর এগোতে পারেনি।
বৈভব সূর্যবংশীর প্রতিভায় মুগ্ধ গোটা বিশ্ব! ‘বিস্ময় বালক’-কে নিয়ে গবেষণা শুরু করছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
২ টি প্রধান জাহাজ নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে: এই প্রকল্পের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী দেশের ২ টি প্রধান জাহাজ নির্মাণকারী সংস্থা মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL) এবং লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-র সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। MDL ‘অ্যারোয়ানা’ নামক প্রোটোটাইপটি তৈরি করেছিল। অন্যদিকে, L&T এসভি-৪০০-র ডিজাইন তৈরি করেছিল। এদিকে, ইতালির প্রতিরক্ষা সংস্থা ফিনকান্টিয়েরি এবং দ্রাস সহ বেশ কয়েকটি ইউরোপিয় কোম্পানির ডিজাইনও বিবেচনা করা হচ্ছে। নৌবাহিনী এই বিদেশি ও দেশীয় বিকল্পগুলিকে তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, অগভীর জলে অভিযান পরিচালনা এবং স্পেশাল ফোর্সের চাহিদার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করছে।




