এসেছিলেন IVF চিকিৎসার আশায়! দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কাঁধে মাথা রেখে মৃত্যু আফ্রিকান দম্পতির

সবদিক নিউজ:দিল্লির রেস্তোরায় অগ্নিকাণ্ডের (Delhi Hotel Fire) ঘটনা উঠে এলো এক হৃদয়বিদারক কাহিনি। “For better, for worse, for richer, for poorer, in sickness and in health, to love and to cherish, till death do us part.” খ্রিস্টান মতে বিয়ে করার সময় বর-কনে দুজনেই এই সংকল্প নিয়ে থাকেন। যার সার সংক্ষেপ হল যেকোনও পরিস্থিতিতেই আমৃত্যু একে ওপরের পাশে থাকা সাথে থাকা। ঠিক সেরকমই এক উদাহরণ উঠে এল দিল্লির রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়। দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যেই উঠে এসেছে এক হৃদয়বিদারক কাহিনি, যা নাড়িয়ে দিয়েছে উদ্ধারকারীদেরও। আগুনে নিহতদের মধ্যে ছিলেন এক আফ্রিকান দম্পতি, যাঁরা ভারতে এসেছিলেন একটি সন্তানের আশায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁরা নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে আইভিএফ বা বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এবং সেই কারণেই ‘ফ্লারিশ স্টে’ নামের হোটেলে অস্থায়ীভাবে থাকছিলেন। বুধবার সকালে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা ভবন। প্রাণ বাঁচাতে বহু অতিথি ছুটোছুটি শুরু করলেও ওই দম্পতির পরিণতি শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত মর্মান্তিক হয়ে ওঠে।
দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে (Delhi Hotel Fire) কাঁধে মাথা রেখে মৃত্যু আফ্রিকান দম্পতির:
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুন লাগার পর হোটেলের (Delhi Hotel Fire) নিচতলার একটি বাথরুম থেকে ওই দম্পতির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো প্রথম উদ্ধারকারীদের অন্যতম এবং ম্যাক্স স্মার্ট হাসপাতালের ডিউটি ইন-চার্জ ওয়াসিম রাজা জানান, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন দৃশ্য তিনি কখনও দেখেননি। বাথরুমের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখা যায়, মহিলা টয়লেটের সিটে বসে আছেন এবং তাঁর স্বামী পাশের একটি চেয়ারে। দু’জনের হাত একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ছিল। মহিলার মাথা ছিল স্বামীর কাঁধে হেলান দেওয়া। মনে হচ্ছিল, মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও তাঁরা একে অপরকে ছেড়ে যেতে চাননি। উদ্ধারকারীরা দ্রুত তাঁদের নাড়ি পরীক্ষা করেন এবং সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল।
৬ টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বিমান পরিষেবা স্থগিত করল ইন্ডিগো! জানানো হল কারণ
ওয়াসিম রাজার অনুমান, আগুনের চেয়ে ধোঁয়ার বিষক্রিয়াতেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, “যখন মৃত্যু খুব কাছে চলে এসেছিল, তখনও তাঁরা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দৃশ্যটি আমার মনে চিরকাল থেকে যাবে।” স্থানীয় ট্যাক্সিচালক ইকরারও জানান, এলাকার অনেক চালক ওই দম্পতিকে চিনতেন। কারণ তাঁরা নিয়মিত হাসপাতালে যাতায়াত করতেন। তাঁর কথায়, “তাঁরা একটি পরিবার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। চিকিৎসার মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করার আশা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না।” এই ঘটনা শুধু একটি অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং একটি অপূর্ণ স্বপ্নেরও করুণ সমাপ্তি হয়ে উঠেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে হোটেলটির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, হোটেলের ছাদের দরজা বন্ধ ছিল। এছাড়াও একাধিক রুম রান্নার হিটার ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, মাত্র ছয়টি রুম পরিচালনার অনুমতি থাকলেও সেখানে প্রায় ২৫টি কক্ষ চালানো হচ্ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। ফলে অগ্নিকাণ্ডের সময় অতিথিদের নিরাপদে বেরিয়ে আসার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়ে। এই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও দমকল বিভাগ।

বাড়ল বিপদ! কলকাতা হাইকোর্টে জোর ধাক্কা খেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘটনার পর দিল্লি পুলিশ হোটেলের (Delhi Hotel Fire) পলাতক ম্যানেজারের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। পাশাপাশি ভবনের মালিক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন, যাঁরা চিকিৎসা, ব্যবসা বা কর্মসূত্রে দিল্লিতে এসেছিলেন। তবে এত মৃত্যুর মাঝেও ওই আফ্রিকান দম্পতির শেষ মুহূর্তের গল্পই সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে। নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে হাজার মাইল দূরে আসা দুই মানুষ শেষ পর্যন্ত একে অপরের বাহুডোরেই মৃত্যুকে বরণ করেছেন—যা এই ট্র্যাজেডির সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।




