0%

ইয়ামালের গতি, পেদ্রির ম্যাজিকের সঙ্গে রক্ষণ-কাঁটাও! নতুন ‘তিকিতাকা’য় বিশ্বসেরা হবে স্পেন?

প্রথমবার ৪৮ দেশের বিশ্বকাপ। ফুটবলের মহাযুদ্ধে কে হবে বিশ্বজয়ী? কী হবে হট ফেভারিট দেশগুলোর রণকৌশল? কেমন হতে পারে সেরা একাদশ? শক্তি-দুর্বলতাই বা কী? চুলচেরা বিশ্লেষণে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। আজ আলোচনায় স্পেন।

গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ: বিশ্বকাপে স্পেন রয়েছে ‘এইচ’ গ্রুপে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে (১৫ জুন), সৌদি আরব (২১ জুন) ও উরুগুয়ে (২৭ জুন)। কঠিন গ্রুপ।

স্কোয়াড: উনাই সিমন, ডেভিড রায়া, জোয়ান গার্সিয়া (গোলকিপার)। এমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়া, মার্কোস লরেন্তে, এরিক গার্সিয়া, পেড্রো পোরো, অ্যালেক্স গ্রিমাল্ডো, পাউ কুবারসি, মার্ক পুবিল (রক্ষণভাগ)। রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, মিকেল মেরিনো, পেদ্রি, গাভি, মার্টিন জুবিমেন্ডি, অ্যালেক্স বায়েনা (মাঝমাঠ)। ফেরান তোরেস, মিকেল ওয়ারজাবাল, দানি ওলমো, নিকো উইলিয়ামস, লামিনে ইয়ামাল, ইয়েরেমি পিনো, বোরখা ইগলেসিয়াস, ভিক্টর মুনোজ (আক্রমণ)।
কোচ: লুইস দে লা ফুয়েন্তে

সম্ভাব্য প্রথম একাদশ: উনাই সিমন (গোলকিপার), মার্ক কুকুরেয়া, এমেরিক লাপোর্ত, পাউ কুবারসি, মার্কোস লরেন্তে (ডিফেন্ডার), পেদ্রি, রদ্রি, দানি ওলমো (মাঝমাঠ), লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল, নিকো উইলিয়ামস (আক্রমণ)।

শক্তি: ২০১০-র চ্যাম্পিয়ন দেশ ফ্রান্স। সেবারের মতোই এবারও বিশ্বকাপে নামছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়ে।

  • তারুণ্যে বোঝাই দল। গড় বয়স অনেক কম হলেও প্রত্যেকেই ক্লাব ফুটবলে সুপ্রতিষ্ঠিত। অভিজ্ঞতার কমতি হবে না।
  • গতিশীল ফুটবল। দুই উইংয়ে ইয়ামাল ও নিকো গতিতে বিপক্ষকে ঝালাপালা করে দিতে পারে। লরেন্তের মতো সাইড ব্যাক উঠে গিয়ে গোল করতে অভ্যস্ত।
  • মাঝমাঠ ‘সোনায় মোড়া’। ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি, বার্সেলোনার ‘ম্যাজিশিয়ান’ পেদ্রি। দানি ওলমো অ্যাটাকিং মিডিও হিসেবে থাকবেন। বিকল্প আছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী ফাবিয়ান রুইজ, লা লিগা জয়ী গাভি, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জয়ী মার্টিন জুবিমেন্ডি, মিকেল মেরিনোরা।
  • পজিশন, বল কন্ট্রোল বা ডিফেন্স চেড়া পাস, সবেতেই স্পেনের ফুটবলারদের জুড়ি মেলা ভার। গোল করার জন্য দুয়েকজনের উপর নির্ভর করতে হয় না। প্রথাগত স্ট্রাইকার ছাড়া খেলেও শেষ ১০ ম্যাচে ২৫টি গোল করেছে লা ফুয়েন্তের ছেলেরা

দুর্বলতা:

  • রক্ষণে খামতি আছে। লাপোর্ত গতিশীল নন। কুবারসি এখনও ডিফেন্সকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো জায়গায় আসেননি। এই দু’জন ছাড়া কোনও ফুল ব্যাক নেই। এরিক গার্সিয়া এখন বার্সেলোনায় সাইড ব্যাকে খেলেন। রিয়াল-বর্জনের ফলে ফুল ব্যাক ডিন হুইসেন বাদ পড়েছেন।
  • কাউন্টার অ্যাটাকে গোল খাওয়ার প্রবণতা। স্পেনের এই সমস্যা বহুদিনের। পজিশন নির্ভর হাই লাইন ফুটবলে বিপদের আশঙ্কা থেকেই যায়। ছোট ভুলে বিপক্ষ সর্বনাশ করে দিতে পারে। শারীরিকভাবে শক্তিশালী ফুটবলারের কমতি আছে।

এক্স ফ্যাক্টর: নিঃসন্দেহে লামিনে ইয়ামাল। গতি, স্কিল, রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়ার ক্ষমতায় এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা প্রতিভা। বার্সেলোনার হয়ে এই মরশুমে ২৬টি গোল, ১৭টি অ্যাসিস্ট রয়েছে। ১৬ বছরে ইউরো জিতেছেন। এবার মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেকও স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন।

রণকৌশল: স্পেন মানে শুধু ‘তিকিতাকা’, এই ধারণা কিন্তু শেষ। দেল বস্কি থেকে লুইস এনরিকে পর্যন্ত, পাসের ফুলঝুরিতেই নির্ভর করতেন। লা ফুয়েন্তে তার সঙ্গে মিশিয়েছেন গতি। পাস খেলে দ্রুত গোলের কাছে পৌঁছে যাও। এর কার্যকারিতা অনেক বেশি। লা ফুয়েন্তের রণকৌশলের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হল, তিনি ‘গোয়ার্তুমি’ করেন না। ৪-২-৩-১ ছকে শুরু করলেও প্রয়োজন বুঝে ফর্মেশন বা পরিকল্পনা বদল করে নেন। ডবল পিভটে রদ্রি-পেদ্রি থাকলেও পেদ্রি স্বাধীনভাবে খেলার জায়গা পাবেন। ইউরোর মতো এবারও ওয়ারজাবাল ‘ফলস নাইন’ হিসেবে থাকবেন। বিকল্প হিসেবে আসবেন ফেরান তোরেস।

সম্ভাবনা: গ্রুপ কঠিন। উরুগুয়ে, সৌদি আরব শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে রাউন্ড অফ ৩২-এ অস্ট্রিয়া, শেষ ১৬-য় ক্রোয়েশিয়া। এরপর কোয়ার্টারে বেলজিয়াম ও সেমিতে ফ্রান্সের সঙ্গে মোকাবিলার সম্ভাবনা। রাস্তা একেবারেই সহজ নয়। বিশ্বজয়ের অন্যতম দাবিদার। সেমি পর্যন্ত না যেতে পারলে অঘটন হবে।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker