0%

‘সিএবি কোষাধ্যক্ষ ইচ্ছেমতো আইন বদলে ফেলতে পারেন না’, ফের বিস্ফোরক অভিষেক

লোধা আইন ভেঙে সত্তরোর্ধ্ব সিএবি যুগ্ম সচিব মদন ঘোষের পদে দিব্য বহাল থেকে যাওয়া নিয়ে চাপান-উতোর চলছে সংস্থার বর্তমান কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়ার মধ্যে। 

সর্বপ্রথম সঞ্জয় বলেছিলেন যে, সিএবি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন অভিষেক ‘কুলিং অফ’ শুরু হয়ে যাওয়ার পরেও পদে দশ-এগারো মাস বাড়তি থেকে গিয়েছিলেন। যার পালটা দিয়ে অভিষেক বলেন যে, সিএবি কোষাধ্যক্ষ ‘কুলিং অফ’ আর ‘ডিসকোয়ালিফিকেশন’-এর পার্থক্যই জানেন না। অভিষেক ঘনিষ্ঠরা যুক্তি দিয়ে বলেন যে, লোধা আইনে ‘ইনএলিজিবিলিটি’র যা শর্ত রয়েছে, তাতে পদাধিকারী যদি পরপর দু’টো টার্ম সম্পন্ন করে ফেলেন, তা হলে তিন বছরের ‘কুলিং অফ’ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে লড়তে পারবেন না। এবং অভিষেক নির্বাচনে লড়েননি। তাই বাড়তি দশ-এগারো মাস থাকায় কিছু যায়-আসে না।

যার প্রত্যুত্তরে সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় আবার বলেন, অভিষেক মাত্র দশ-এগারো মাসই থাকলেন কেন? কেন আরও বেশি থাকলেন না? কেন ২০২২ সালেই ছেড়ে গেলেন? নির্বাচনের ব্যাপার তো ছিল না। সিএবির পূর্বতন প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও টানেন সঞ্জয়। বলে দেন, “স্নেহাশিস মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার চার মাস আগে পদ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অভিষেকেরও উচিত ছিল ২০২১ সালেই সরে যাওয়া।” যার জবাব শনিবার দিলেন অভিষেক ডালমিয়া। সিএবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট যা বললেন সঞ্জয়ের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে, নিচে তুলে দেওয়া হল…।

…সিএবি কোষাধ্যক্ষের মন্তব্য দেখে আমি বেশ আশ্চর্যই হয়েছি। কারণ ওঁর বক্তব্য গঠনতন্ত্রের বিধান এবং ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত যে নির্দেশিকা অনুসরণ হয়, তার পরিপন্থী। একটা বিষয় বুঝতে হবে। নির্বাচনের সময় কেউ যদি বৈধভাবে মনোনয়ন জমা করেন, তা হলে তার রেজাল্ট ঘোষণা পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হিসেবেই গণ্য হন। সেখানে ভোট হয়েছে কি না, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে কি না, কিংবা সে ব্যক্তি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন কিনা, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকার অর্থ সংশ্লিষ্ট সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কেউ লড়াইয়ে নামেননি। কিন্তু তাতে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, কিছুতেই বলা যায় না।

আমার বিরুদ্ধে সিএবির বর্তমান কোষাধ্যক্ষ বলেছেন যে, কেন আমি ২০২২ সালের অক্টোবর মাসেই ছেড়ে দিলাম? কেন আরও বেশি দিন থাকলাম না? উনি বলেছেন দেখলাম যে, ছ’বছর এগারো মাসই বা থাকলাম কেন? সাত, আট, নয়, দশ যত বছর ইচ্ছে নাকি থাকতে পারতাম। কোন যুক্তিতে সেটা করিনি? যুক্তিটা দিই। প্রথমত, ২০২১ সাল ‘ইলেকশন ইয়ার’ ছিল না। কারণ, ভারতীয় ক্রিকেটে লোধা আইন কার্যকর হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে। তাতে পদাধিকারীর প্রশাসনিক ‘টার্ম তিন বছর ধার্য করা রয়েছে। যে বছর তা শেষ হবে, সেটা ‘ইলেকশন ইয়ার’ বা নির্বাচনী বছর। আমার ক্ষেত্রে যা ছিল ২০২২। কখনওই ২০২১ নয়। এবং সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত ভারতীয় ক্রিকেট গঠনতন্ত্রে পদাধিকারীর প্রশাসনিক মেয়াদ এবং কুলিং অফ নিয়ে যা বলা রয়েছে, তাতে বাধ্যতামূলক তিন বছরের কুলিং অফ সম্পূর্ণ না করে ২০২২-২০২৫ সময়-বৃত্তে কখনওই আমি আবার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে পারতাম না।

সংস্থার গঠনতন্ত্র এবং এ বিষয়ে আইনি মতামত দু’ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা স্পষ্ট করা রয়েছে। একই রকম ভাবে, লোধা নির্দেশিত বোর্ড ও তার অধীনস্থ সংস্থার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি একই সঙ্গে একটা রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা এবং বোর্ড দুই পদে থাকতে পারেন না। সেই কারণেই আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে সিএবির প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়ে দিয়েছিলাম। নইলে তা গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী হত। তাই মনে হচ্ছে, যোগ্যতা, মেয়াদ, কুলিং অফ এবং একাধিক পদে থাকার বিধান সম্পর্কে কিছু ভুল বোঝাবুঝির জায়গা থেকেই এ ধরনের মন্তব্য করেছেন সিএবি কোষাধ্যক্ষ।

আরও একটা কথা। উপরোক্ত ব্যাপারে বর্তমান সিএবি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে বিষয়টা জেনে নেওয়া যেতে পারে। কারণ তিনি ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন একই গঠনতন্ত্র নির্দেশিকা এবং কুলিং অফ সংক্রান্ত একই আইনি মতো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন. সিএবি কোষাধ্যক্ষ দেখলাম, স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের উদাহরণও দিয়েছেন। বলেছেন যে, তিনি ছ’বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার চার মাস আগে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। মনে হয় না, সে উদাহরণ বিশেষ প্রাসঙ্গিক বলে। কারণ, ২০২৫ সাল ছিল ‘ইলেকশন ইয়ার।’ নির্বাচনী বছর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্ধারিত কুলিং অফ সম্পূর্ণ না করে স্নেহাশিস ২০২৫-২০২৮ মেয়াদের জন্য পদপ্রার্থী হতে পারতেন না। তাই তিনি পদে ‘চার মাস কম ছিলেন’- এ ধরনের সরলীকরণ চলে না।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, স্নেহাশিসের মেয়াদ শুধু সচিব হওয়ার পর থেকে ধরা যাবে না। তিনি ২০১৯ সাল থেকেই ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হিসাবে সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ফলে ২০১৯ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত স্নেহাশিস টানা ছয় বছর প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ ছিলেন। সেই কারণেই এরপর তাঁর ক্ষেত্রে তিন বছরের বাধ্যতামূলক কুলিং অফ প্রযোজ্য হয়েছে।

আসলে কুলিং অফের ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য এবং পদাধিকারীদের মধ্যে কোনও পার্থক্য করেনি। এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। তাই অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য হিসেবে কাটানো সময়কে কুলিং অফের হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তাই যে উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, তা যুক্তিগ্রাহ্য নয়। বরং লোধা আইন অনুযায়ী সৃষ্ট ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের গঠনতন্ত্রে পদাধিকারীর প্রশাসনিক মেয়াদ এবং কুলিং অফ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে সিএবি কোষাধ্যক্ষের ব্যাখ্যার কোনও সঙ্গতি বা সামঞ্জস্য, কিছুই নেই। আর কুলিং অফ, যোগ্যতা এবং মেয়াদ সংক্রান্ত নিয়ম সিএবি কোষাধ্যক্ষ নিজের ইচ্ছেমতো বদলে দিতে পারেন না…।’

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker