আরও বাড়ল অভিষেকের বিপদ! হাজিরার নির্দেশ দিয়ে সমন পাঠাল ত্রিপুরার আদালত

বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সামনে আইনি চ্যালেঞ্জ আরও বাড়ল। একদিকে বিধানসভার পরিষদীয় দলের সই জাল কাণ্ডে সিআইডির তদন্ত, অন্যদিকে বহু পুরনো একটি মামলায় আদালতের সমন। বুধবার ত্রিপুরার খোয়াই আদালতের নির্দেশে তাঁর নামে সমন পাঠানো হয়, যা পৌঁছায় কলকাতার কালীঘাটের বাসভবনে।
কেন অভিষেককে (Abhishek Banerjee) সমন ?
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিষেককে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। তবে সমন পৌঁছনোর সময় তিনি দিল্লিতে ছিলেন। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে রাজধানীতে যাওয়ায় তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ফলে নোটিস গ্রহণকে কেন্দ্র করে কিছু সময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে তৃণমূলের এক নেতা সেই সমন গ্রহণ করেন বলে জানা গিয়েছে।
যে মামলাকে ঘিরে এই সমন, তার সূত্রপাত ২০২১ সালে। ওই সময়ে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে ত্রিপুরায় গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা এবং জয়া দত্ত। পরে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগ তুলে তাঁদের গ্রেপ্তার করে ত্রিপুরা পুলিশ। সেই গ্রেপ্তারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যে।
দলীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে পরবর্তীতে খোয়াই থানার সামনে বিক্ষোভ-অবস্থানে বসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা। সেই সময় পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁদের তর্ক-বিতর্ক এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনাও সামনে আসে।
এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। সেই FIR-কে কেন্দ্র করেই বর্তমানে আদালত প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
খোয়াই আদালত থেকে সমন পাঠানো হয় আলিপুর আদালতে এবং সেখান থেকে তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আদালতের নির্দেশ ছিল, নির্দিষ্ট দিনের মধ্যেই নোটিস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে পৌঁছে দিতে হবে। সেই নির্দেশ পালন করতে আলিপুর আদালতের বিশেষ কর্মী প্রথমে কালীঘাট থানায় যান। পরে তিনি অভিষেকের বাসভবনে পৌঁছলেও তাঁকে না পাওয়ায় সমন গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

আরও পড়ুন : মেসি কাণ্ডের জল গড়াচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে! অরূপের বিপদ বাড়িয়ে বড় পদক্ষেপ শতদ্রুর
উল্লেখ্য, সই জাল কাণ্ডের তদন্তে সিআইডি ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনবার নোটিস পাঠিয়েছে। কিন্তু তিনি এখনও তদন্তকারীদের সামনে হাজির হননি। বরং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR বাতিলের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি মামলায় রক্ষাকবচের আবেদনও করেছেন তিনি। সেই আবেদনের শুনানি হওয়ার আগেই ত্রিপুরার আদালতের সমন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।




