“একত্রিশে সরকার বদলালে একটাও BJP অফিস থাকবে না!”, আমতলার অফিস ভাঙতেই নিউটনের সূত্রে হুমকি অভিষেকের

AK Bangla Desk: ভোট বাক্সে মানুষ মুখ ফিরিয়েছে, একের পর এক আইনি মামলায় জর্জরিত হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত, কিন্তু রাজনৈতিক অলিন্দে তাঁর দম্ভ যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা শনিবার আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় তাঁর সুবিশাল পাঁচতলা কার্যালয়ে প্রশাসনের বুলডোজার অ্যাকশন চলতেই একে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ বলে দেগে দিয়েছেন তিনি। শনিবার বিকেলে কালীঘাটের বাড়ির সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এবার সরাসরি নিউটনের সূত্র টেনে বিজেপিকে খোলাখুলি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে বসলেন এই তৃণমূল নেতা। তাঁর সাফ হুঁশিয়ারি, “প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। ২০৩১ সালে রাজ্যে সরকার বদলালে বিজেপির একটাও পার্টি অফিস আস্ত থাকবে না।”
৩টি বুলডোজারের হুঙ্কার এবং তাসের ঘরের মতো পতন
প্রশাসনের তরফে পরপর নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও কোনও সদুত্তর না মেলার অভিযোগে শনিবার সকাল থেকেই চরম অ্যাকশন মোডে নামে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। ৩টি পেল্লায় বুলডোজারের হুঙ্কারে কার্যত তাসের ঘরের মতো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচতলা বিশাল কার্যালয়টি। শুধু সরকারি হাতলই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে। হাতুড়ি পিটিয়ে বিল্ডিংয়ের ভেতরে দেদার ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনা প্রসঙ্গে অভিষেক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “শুধু জেলা প্রশাসনের লোক নয়, বিজেপির নেতা-কর্মীরা গেরুয়া উত্তরীয় দিয়ে মুখ ঢেকে আমার পার্টি অফিসে ঢুকে তাণ্ডব করেছে। এই সমস্ত ঘটনার ভিডিও ফুটেজ নিয়ে আমি হাইকোর্টে যাব, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে, তাদের কাউকেই ছেড়ে কথা বলা হবে না।”
বেকারি পুড়িয়ে অবৈধ বিল্ডিং? কোর্টে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ
অভিষেকের এই কার্যালয়টির বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল, এটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তৈরি। রাতারাতি একটি বেকারি পুড়িয়ে তার ওপর কোনও রকম আইনি অনুমোদন বা বৈধ প্ল্যান ছাড়াই এই বহুতলটি খাড়া করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের দাবি, “ওই পার্টি অফিস কোনও সরকারি খাস জমিতে তৈরি নয়। আমাদের কাছে সমস্ত বৈধ নথি ও প্ল্যান রয়েছে। সব প্রমাণ আমরা আদালতে দেখাব।”
একই সাথে প্রশাসনের ‘বুলডোজার মডেল’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক বলেন, “নোটিসের নির্ধারিত দিনে অর্থাৎ ১৫ তারিখ আমাদের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। তারপরেও মাত্র দু’দিনের মধ্যে সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়া হল কেবল ক্ষমতা প্রদর্শন করতে। এর পিছনে বিজেপির প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। যে আইনি গ্যাঁড়াকলে ফেলে এই অত্যাচার করা হচ্ছে, ৩১-এ একই আইন আমরা ওদের ফিরিয়ে দেব।”
এদিকে, এই হুমকির জবাবে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে শাস শিবির। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ৩১-এ জিতে ফেরার স্বপ্ন যে আকাশকুসুম, তা খুব ভাল করেই জানেন খোদ তৃণমূল নেতা। তারপরেও নিজের স্বভাবসিদ্ধ হুমকি-রাজনীতি তিনি বজায় রাখছেন। ঠিক যেভাবে অতীতে আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগের ওপর হামলার পর গাড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে বিরোধী দলকে ‘ডিজে বাজানো’র হুমকি দিয়েছিলেন, ঠিক সেই একই কায়দায় আজ নিজে বিরোধী শিবিরে থেকেও সেই হুঙ্কারই শোনা গেল অভিষেকের গলায়।



