কেষ্ট-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়িতে টাকার পাহাড়! নোট গুনতে মেশিন-ট্রাঙ্ক নিয়ে এল পুলিশ

AK Bangla Desk: গভীর রাতের অন্ধকারে বীরভূমের দেউচা এলাকায় এক নজিরবিহীন অভিযানের সাক্ষী থাকল এলাকাবাসী। প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ তথা বিতর্কিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে আচমকাই হানা দিল বীরভূম জেলার পুলিশ। রাত পেরিয়ে সকাল গড়ালেও সেই তল্লাশি অভিযান এখনো অব্যাহত। আর সেই তল্লাশিতে বেরিয়ে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে থরে থরে সাজানো বান্ডিল বান্ডিল নগদ টাকা এবং খাঁটি সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, মিনার পেশায় একজন সরকারি বাস চালক হলেও দীর্ঘদিন ধরেই তিনি টুলু মণ্ডলের বেআইনি পাথর খাদানের ব্যবসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশের একটি বিশাল টিম গিয়ে গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ এতটাই বিশাল যে তা গণনা করার জন্য তড়িঘড়ি আনা হয়েছে অন্তত ৫টি নোট গোনার যন্ত্র! শুধু তাই নয়, বাজেয়াপ্ত টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে দুটি বিশালাকার লোহার ট্রাঙ্ক। প্রাথমিক অনুমান, ওই বাড়ি থেকে নগদ ৩০ থেকে ৩২ কোটি টাকা এবং প্রায় ৮ থেকে ১০ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সোনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
উল্লেখ্য, বীরভূমে টুলু মণ্ডল একটি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। অনুব্রত মণ্ডলের হাত ধরে উত্থান হওয়া এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি পাথর খাদান চালানো এবং গরু পাচার চক্রে জড়িত থাকার মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) ব়্যাডারেও ছিলেন তিনি; সেসময় তাঁর বাড়ি ও কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থা কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রহারায় দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েছিল।
এই বিপুল পরিমাণ ক্যাশ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা দেউচা এলাকায়। ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। সাঁইথিয়ার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা কটাক্ষ করে বলেন, “রাজ্যে দুর্নীতিগ্রস্তদের আসল খেলা এখন শুরু হয়ে গেছে। চোর, ডাকাত ও সিন্ডিকেট রাজ খতম হতে চলেছে। উদ্ধার হওয়া এই সমস্ত কাঁচা টাকা বাজেয়াপ্ত করে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাজে ব্যবহার করা উচিত।” তবে সরকারি ড্রাইভারের বাড়িতে এত কোটি টাকা ও সোনার পাহাড় কোথা থেকে এল, তার উৎস কী, তা খতিয়ে দেখতে লাগাতার জেরা চালিয়ে যাচ্ছেন তদন্তকারীরা।



