৪০ হাজার নারীর উত্তরণে রেখেছেন বিশেষ অবদান, না ফেরার দেশে সমাজসেবী মাধুরী ঘোষ | Bagnan social worker Madhuri Ghosh who empowered women passes away

অনন্যা সরকার, হাওড়া: নারী কল্যাণ ও ক্ষমতায়নে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন হাওড়ার বাগনানের বাসিন্দা মাধুরী ঘোষ (Madhuri Ghosh)। পেশায় বাগনান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হলেও, তিনি নারীদের শিক্ষিত করা ও তাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন (Social Worker)। ৩৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তোলা তাঁর স্বনির্ভর গোষ্ঠী একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়, যা হাজার হাজার মহিলার জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। বুধবার বার্ধক্যজনিত কারণে ৭৪ বছর বয়সে শিক্ষিকা ও সমাজসেবী মাধুরী ঘোষ পরলোকগমন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকোস্তব্ধ গোটা বাগনান।
নারী শিক্ষায় মাধুরী ঘোষের উল্লেখযোগ্য অবদান
নব্বইয়ের দশকে রাজ্যে যখন সাক্ষরতা অভিযান শুরু হয়, তখন মাধুরী ঘোষ নারীদের প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি সবসময় এই কথাটাই বলতেন যে, শিক্ষার পাশাপাশি মহিলাদের নিজস্ব উপার্জনের সক্ষমতা থাকাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি ১৯৯৫ সালে বাগনান-১ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামের মহিলাদের নিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠনের উদ্যোগ নেন। তাঁর নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে ‘বাগনান-১ মহিলা বিকাশ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড’, যা ৫৮৯ জন সদস্যকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে।
শুরুতে মাত্র ১০ টাকা জমা দিয়ে পাসবুক চালু করে সমবায়টি খুলেছিলেন মাধুরী দেবী। আজ এই সমবায়ের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারে পৌঁছেছে। বর্তমানে মহিলা বিকাশ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির সদস্যরা মাসে গড়ে ৫,০০০ টাকা আয় করেন। ১৯৯৬ সালে থেকেই এই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম শুরু হয়, স্থানীয়দের মুখে মুখে যা ‘আপনা বাজার’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এখানে মহিলারা আচার, জেলি, সাবান, মোমবাতির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করেন এবং সেগুলো সেখানেই বিক্রি করা হয়।
আরও পড়ুন: ফের ধাক্কা! নেহা বোরার পর আরও এক জনপ্রিয় নেতার সমর্থন হারাল সিজেপি
২০১৭ সালে মাধুরী ঘোষ ‘বাগনান-১ মহিলা বিকাশ কনজিউমার কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড’ নামে আরেকটি সমবায় প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোতে তৈরি পণ্য সরাসরি সদস্যদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই সমবায়টি রাজ্যে পাঁচবার ‘সেরা নারী সমবায়’ শিরোপা জিতে নিয়েছে এবং জাতীয় সমবায় উন্নয়ন নিগম (NCDC)-এর পক্ষ থেকেও তিনবার সেরার খেতাব পেয়েছে।



