0%

অপারেশন সিঁদুরেও হয়নি শিক্ষা? পাকিস্তান থেকে নতুন ষড়যন্ত্রের জাল লস্কর-ই-তৈবার

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পহেলগাম হামলার পর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ বড় ধাক্কা খাওয়ার পরও থেমে নেই লস্কর-ই-তৈবা। বরং পাকিস্তানের (Pakistan) বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে নিজেদের অবকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ এই জঙ্গি সংগঠন। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের অ্যাবোটাবাদে একটি নতুন মারকাজ বা সন্ত্রাসী কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এটি এলইটির পঞ্চম বড় স্থাপনা, যা নতুন করে তৈরি বা সম্প্রসারিত হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলির বিকল্প হিসেবে নতুন এলাকায় নিজেদের নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন করার কৌশল নিয়েছে সংগঠনটি।

পাকিস্তান (Pakistan) থেকে নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গিরা:

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাবোটাবাদের এই নতুন কেন্দ্রটির নামকরণ করা হচ্ছে আব্দুল রহমান মাক্কির নামে। মাক্কি হলেন লস্কর প্রধান হাফিজ সাঈদের শ্যালক এবং সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ নেতা। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুরে জন্মগ্রহণকারী মাক্কিকে ভারত ও আমেরিকা উভয় দেশই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিনি জামাত-উদ-দাওয়া এবং লস্কর-ই-তৈবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক শাখার নেতৃত্বে ছিলেন। সংগঠনের কৌশল নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বহুবার উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা রিপোর্টে। সেই কারণেই নতুন মারকাজের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে যাওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

আরও পড়ুন: এক সপ্তাহে বাড়ল ৩০ টাকা! ডিম-মুরগির দামে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত বিভিন্ন অঞ্চলে লস্কর-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের কার্যকলাপ বেড়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কেপিকে অঞ্চলে একটি ঘাঁটি সম্প্রসারণের খবর সামনে আসে। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোটলি, মার্চ মাসে মিরপুর এবং রাওয়ালকোটে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ বা সম্প্রসারণের তথ্য মেলে। সর্বশেষ সংযোজন অ্যাবোটাবাদের এই নতুন কেন্দ্র। গোয়েন্দাদের মতে, এই ধারাবাহিক সম্প্রসারণ থেকে স্পষ্ট যে, জঙ্গি সংগঠনগুলি নিজেদের কার্যক্রমকে এক জায়গায় সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে কোনও একটি ঘাঁটি ধ্বংস হলেও সামগ্রিক নেটওয়ার্ক অক্ষত থাকে।

ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির আশঙ্কা, অ্যাবোটাবাদের নতুন কমপ্লেক্সটি কেবল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবেই নয়, নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হতে পারে। বিশেষত অনাথ শিশু, আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবার এবং সামাজিকভাবে প্রান্তিক তরুণদের লক্ষ্য করে উগ্রবাদী মতাদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের গোষ্ঠীগুলি প্রায়শই অসহায় ও নিরাপত্তাহীন তরুণদের টার্গেট করে, কারণ তাদের মাধ্যমে সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি গড়ে তোলা সহজ হয়। পাশাপাশি, এই প্রক্রিয়ায় জঙ্গি সংগঠনগুলি নিজেদের মানবসম্পদ বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য নতুন নেতৃত্বও তৈরি করার চেষ্টা করে।

Lashkar-e-Taiba terrorists are weaving a new conspiracy from Pakistan.

আরও পড়ুন: ‘জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ জরুরি’,বঙ্গে আসতে চলেছে জন্মনিয়ন্ত্রণ আইন ! বড় মন্তব্য শমীক ভট্টাচার্যের

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। ৭ মে পরিচালিত সেই অভিযানে পাকিস্তান (Pakistan) ও পাকিস্তান-অধিকৃত অঞ্চলে অবস্থিত লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের একাধিক সন্ত্রাসী ঘাঁটির ওপর নির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ভারতীয় সেনার দাবি ছিল, ওই অভিযানে নয়টি বড় সন্ত্রাসী কেন্দ্র ধ্বংস করা হয় এবং মুরিদকেতে অবস্থিত লস্করের সদর দপ্তরও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। পরবর্তীতে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বও সেই ক্ষতির কথা স্বীকার করে। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই ধাক্কা সামলে নতুন এলাকায় ঘাঁটি গড়ে নিজেদের কার্যকলাপ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে জঙ্গি সংগঠনগুলি। ফলে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker