অভিষেক কি ধরে রাখতে পারবেন নিজের শিবির? বাড়ছে সাংসদ টানার আশঙ্কা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে দ্রুত বদল ঘটছে। ভোটে পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) দলের ক্ষমতার লড়াই প্রকাশ্যে চলে এসেছে। যে দ্বন্দ্ব এতদিন দলের অন্দরে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন বিধানসভা থেকে সংসদ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর সেই সংঘাতের কেন্দ্রে উঠে এসেছে নেতৃত্বের প্রশ্ন।
তৃণমূলকে (Trinamool Congress) নিয়ে অনিশ্চয়তা
দলের বিদ্রোহী শিবির ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছে। তৃণমূলের নয়া দল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মানতে নারাজ।” এই অবস্থান কার্যত দলের বর্তমান ক্ষমতার কাঠামোকেই চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
বিধানসভায় তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত ৮০ জন সদস্যের মধ্যে ৫৮ জন এখন নয়া তৃণমূলের পাশে। সংখ্যার এই সমীকরণ বদলে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—দলের প্রকৃত উত্তরাধিকার কার হাতে থাকবে? ভবিষ্যতে প্রতীক ও দলের নাম নিয়েও কি টানাপড়েন দেখা দিতে পারে?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিধানসভায় শক্তি প্রদর্শনের পর বিদ্রোহীদের পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে সংসদীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করা। সেই কারণে তৃণমূলের সাংসদদের মধ্যে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা শুরু হতে পারে বলেও জল্পনা বাড়ছে। গত সপ্তাহে স্পিকার রথীন্দ্র বোসের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দিয়ে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দাবি করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সেই দাবি মঞ্জুরও হয়। নয়া তৃণমূল দল তাদের রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তুলে ধরেছেন। তার সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, “বিধানসভার তৃণমূলের পরিষদীয় দলের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্ক নেই।”
এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট, লড়াইটা মমতার বিরুদ্ধে নয়; বরং দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্নকে ঘিরেই সংঘাত ঘনীভূত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতিতে তৃণমূলের ভূমিকা, সংসদে দলের অবস্থান এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাবের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

আরও পড়ুন : স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর, বাসে ফ্রি যাতায়াতের সুবিধা চালু
ভোটে হারের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছে দল। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে অস্বস্তি, সই জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্ত, বহিষ্কার এবং শেষ পর্যন্ত পরিষদীয় ভাঙন—ঘটনাগুলি খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটেছে। যার ফলে সংগঠনের ভিত নড়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই তৃণমূল তাদের বিভিন্ন কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে নতুন করে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।




