ইতিমধ্যেই ১,৩০০-রও বেশি মৃত্যু! ইউরোপে তাপপ্রবাহে গলছে ট্রাম লাইন, সতর্ক করে কী জানাল WHO?

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভয়াবহ দাবদাহে পুড়ছে গোটা ইউরোপ (Europe)। ভয়াবহ এই তাপপ্রবাহ (Heatwave) দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এবং ব্রিটেন সহ একাধিক দেশে তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়ছে। অনেক জায়গাতেই তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (World Health Organization) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তীব্র দাবদাহের জেরে ইতিমধ্যেই ১,৩০০-রও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাছাড়াও তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েক দিনেও যদি তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকে তবে পরিস্থিতি আরও জটিলতর হতে পারে।
ইউরোপে (Europe) তাপপ্রবাহ নিয়ে সতর্ক করে কী জানাল WHO?
এই চরম আবহাওয়ার প্রভাব শুধু সেখানকার মানুষের শারীরিক অবস্থাতেই নয়, পরিকাঠামো এবং দৈনন্দিন জীবনেও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে। ইতিমধ্যেই সেখানকার দৈনন্দিন জীবনযাপনের বিভিন্ন ছবি,ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রখর রোদের তাপে বাইরে রাখা ফ্রাইং প্যানে রাখা ডিম ও বেকন মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভাজা হয়ে যাচ্ছে। জার্মানির বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে রাস্তার পিচ গলে গিয়েছে, এমনকি অতিরিক্ত তাপের ফলে রীতিমতো বেঁকে ট্রাম লাইন পর্যন্ত। নেদারল্যান্ডসের কয়েকটি ভিডিওতে রোদের তাপে গাড়ির প্লাস্টিকের অংশ, শপিং কার্ট এবং জুতোর অংশ গলে যাওয়ার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে। যদিও এই সব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও সেগুলি ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বার্লিন সহ একাধিক শহরে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পুলিশকে ওয়াটার ক্যানন দিয়ে জল ছিটাতে দেখা গিয়েছে। অনেকে সেই জলের মধ্যেই দাঁড়িয়ে গরম থেকে সাময়িক কিছুটা মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন (Europe)।
আরও পড়ুন: ১৫০ বছরেরও বেশি পুরনো সাংবিধানিক নীতি বদলানোর উদ্যোগ! মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপরও প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট এবং হৃদ্রোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, শিশু এবং দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ভোগা মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। পাশাপাশি বহু এলাকায় স্কুলে পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়েছে বা সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উপরও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গরম থেকে বাঁচতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, অতিরিক্ত গরম বা ‘হিট স্ট্রেস’কে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ এটি অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের শরীরে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপের অধিকাংশ বাড়ি, কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এত দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র তাপপ্রবাহ মোকাবিলার জন্য নির্মিত নয়। ফলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। তাঁর মতে, বর্তমানে ইউরোপের কোটি কোটি মানুষ এই চরম গরমের মধ্যে বসবাস করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘এটা পাকিস্তানের ভূখণ্ড নয়’, শরিফের ঘুম উড়িয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করার হুঁশিয়ারি PoK-র বাসিন্দাদের
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই ইউরোপে (Europe) এক সময়ের বিরল তাপপ্রবাহ এখন প্রায় প্রতি বছরই দেখা যাচ্ছে এবং তার তীব্রতাও ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে শুধু মানুষের স্বাস্থ্য নয়, কৃষি, পরিবহণ, জ্বালানি এবং সামগ্রিক অর্থনীতির উপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে। পরিবেশবিদদের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটবে। ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি সেই আশঙ্কাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে এবং বিশ্ববাসীর সামনে জলবায়ু সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।



