কী ছিল সবুজ ফাইলে? সুপ্রিম কোর্টে হলফনামায় সবটা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কয়লা পাচার মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই সম্প্রতি ভোটকুশলী সংস্থা I-PAC-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে হানা দিয়েছিল ইডি। কিন্তু সেখানে তদন্ত চলাকালীন আচমকাই উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি সবুজ রঙের একটি ফাইল হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এরপরই ED-র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনতাই করা হয়েছে। এই অভিযোগ নিয়েই ED সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
কী ছিল সবুজ ফাইলে?
এর পাল্টা জবাব হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইডির বাজেয়াপ্ত করা কোনও নথি তিনি নেননি। শুধুমাত্র দলের কাজের সঙ্গে যুক্ত কিছু সংবেদনশীল এবং গোপন রাজনৈতিক নথি ও ইলেকট্রনিক গেজেটস নিয়ে এসেছিলেন। তদন্তে কোনওরকম বাধা দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে।
হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, যেখানে তল্লাশি চলছিল সেখানে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) খুব অল্প সময়ের জন্য উপস্থিত ছিলেন। ইডির কোনও তথ্য বা প্রমাণ তিনি নিয়ে আসেননি। তল্লাশির নামে তৃণমূল কংগ্রেসের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়াই ইডির আসল উদ্দেশ্য ছিল, এমন অভিযোগও তোলা হয়েছে।
কী দাবি মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee)?
মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) দাবি, ইডির অভিযান পুরোপুরি বেআইনি ছিল। কোনও বৈধ সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি চালানো হয়েছে। কয়লা পাচারের টাকা যে প্রতীক জৈনের কাছে গিয়েছে এমন অভিযোগ আইনিভাবে প্রমাণ করতে পারেনি ইডি। ভোটের আগে বিরোধী রাজ্যে হানা দেওয়া এখন ইডির একটি নিয়মিত প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগেও এই মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং অভিষেক মনু সিংভি একই যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। সূত্রের খবর, এ দিনের হলফনামাতেও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে “ইডির বাজেয়াপ্ত করা কোনও নথি আনেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধুমাত্র পার্টির কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল ও গোপন নথি তিনি এনেছেন।”

আরও পড়ুনঃ বিধানসভায় নয়া ভূমিকায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়! কীসের দায়িত্ব পেলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী?
প্রসঙ্গত, ইডির দাবি অনুযায়ী, কয়লা কেলেঙ্কারিতে অনুপ মাজির র্যাকেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ চুরি করা কয়লা বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হয়েছে। এই মামলায় হাওয়ালা লেনদেনের সূত্র ধরেই আইপ্যাকের নাম উঠে আসে। ইডির অভিযোগ, আইপ্যাকের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেন হয়েছে এবং এই আর্থিক লেনদেনে প্রতীক জৈনের যোগসূত্র রয়েছে। সেই সূত্রেই তাঁর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো হয়।



