ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলা! বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির দাপট বাড়বে রাজ্যে

সবদিক নিউজ: রাজ্যে এখনই কাটছে না দুর্যোগের মেঘ, বরং আগামী কয়েক দিন ঝড়বৃষ্টির দাপট আরও বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দুটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে— একটি পূর্ব বিহার থেকে হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত এবং অন্যটি পূর্ব রাজস্থান থেকে ঝাড়খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। এই দুই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করছে, যা কালবৈশাখী বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির জন্য একেবারে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতির জেরে আগামী ১৭ মে পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে।
রবিবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির ভ্রুকুটি রয়েছে। বিশেষ করে হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান— এই পাঁচটি জেলায় ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যান্য জেলাগুলিতে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটারের আশেপাশে থাকতে পারে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে এবং ১৭ মে পর্যন্ত আবহাওয়া মোটের ওপর দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। বৃষ্টির প্রভাবে আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচেই থাকবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
কলকাতাতেও আজ দিনভর রোদে-মেঘের লুকোচুরি খেলা চলবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সকালে কিছুটা ভ্যাপসা গরম অনুভূত হলেও বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ শক্তিশালী ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শহরের তাপমাত্রার পারদ বেশ খানিকটা নেমেছে। রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৬ ডিগ্রি কম। শনিবারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ছিল ৩৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম। দফায় দফায় বৃষ্টি আর মেঘলা আকাশের জেরে আগামী কয়েক দিন তিলোত্তমায় এখনই গরম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।



