চিকিৎসা গ্রহণে হচ্ছেন না রাজি! হাসপাতাল থেকে চিঠি লিখে কী বার্তা দিলেন সোনম?

সবদিক নিউজ:দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন লাদাখের সমাজকর্মী ও পরিবেশ আন্দোলনের মুখ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। যন্তরমন্তরে (Jantar Mantar) দীর্ঘদিন ধরে চলা তাঁর অনশনের মধ্যে শনিবার সকালে দিল্লি (Delhi) পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন, কিন্তু ওয়াংচুক এখনও পর্যন্ত চিকিৎসা গ্রহণে পূর্ণ সম্মতি দেননি। এদিকে হাসপাতালের শয্যা থেকেই তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর আন্দোলন থামেনি এবং আগামী দিনের কর্মসূচিকেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
চিকিৎসা গ্রহণে হচ্ছেন না রাজি! হাসপাতাল থেকে চিঠি লিখে কী বার্তা দিলেন সোনম (Sonam Wangchuk)?
রবিবার প্রকাশ্যে আসে সোনমের (Sonam Wangchuk) হাতে লেখা একটি চিঠি, যা তিনি তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর মাধ্যমে বাইরে পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে তিনি ২০ জুলাইয়ের সংসদ ভবন অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে আন্দোলন সফল করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং অন্যায়, ভয় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ। চিঠিতে তিনি একে ভারতের “দ্বিতীয় স্বাধীনতার আন্দোলন” বলেও উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, তাঁকে হাসপাতালে কার্যত বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
PoK-তে মৃত্যুমিছিল! পাক সেনার অভিযানের নিরপেক্ষ তদন্ত চাইল রাষ্ট্রপুঞ্জ
অন্যদিকে, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শনিবার সফদরজং হাসপাতাল যে স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে দীর্ঘ অনশনের প্রভাবে তাঁর শরীরে ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ স্পষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি পটাশিয়ামের মাত্রাও কমতে শুরু করেছে। যদিও রক্তচাপ, নাড়ির গতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবু সেগুলি স্বাভাবিক অবস্থায় নেই বলে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ। চিকিৎসকদের মতে, জলশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো আইনি পথে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে স্বামীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়েছেন। তাঁর দাবি, বারবার আবেদন সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসন সোনমকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। গীতাঞ্জলির অভিযোগ, হাসপাতাল চত্বরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পুরো পরিস্থিতি এমন যে সোনম কার্যত নজরবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাঁর মতে, একজন রোগীর নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত এবং সেই অধিকার সোনমের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

রাজ্যে শুরু হচ্ছে বেকারভাতার আবেদন! ‘যুবশক্তির’ জন্য কী কী নথি লাগছে? জেনে নিন
উল্লেখ্য, যন্তরমন্তরে চলা এই অনশনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র আলোচনা চলছে। আন্দোলনের সমর্থকরা দাবি করছেন, সোনম ওয়াংচুক যে বিষয়গুলি নিয়ে প্রতিবাদ করছেন, সেগুলি জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত এবং তাই তাঁর কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, তাঁর স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই টানাপোড়েনের মাঝেই সোমবারের সংসদ অভিযানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। হাসপাতালের বেডে শুয়েও সোনম (Sonam Wangchuk) যে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাইছেন, তাঁর চিঠি এবং অবস্থান সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে দিয়েছে।




