0%

চোখের সামান্য লালচে ভাবই বড় বিপদের ইঙ্গিত! পোষ্যর দৃষ্টি কেড়ে নিতে পারে চোখের সংক্রমণ

পোষ্য কুকুর হোক বা বিড়াল পরিবারেরই একজন সদস্য। তাদের খাওয়া, হাঁটা, খেলাধুলোর দিকে যতটা নজর দেন, চোখের স্বাস্থ্যের দিকেও কি ততটাই সচেতন? পশুচিকিৎসকদের মতে, পোষ্যদের চোখের ছোট সমস্যাই অনেক সময় বড় রোগের পূর্বাভাস দেয়। চোখ লাল হওয়া, জল পড়া বা বারবার চোখ ঘষার মতো লক্ষণকে হালকাভাবে নিলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তির ওপর কুপ্রভাব পড়তে পারে।

আমেরিকান ভেটেরিনারি মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (AVMA) জানাচ্ছে, পোষ্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কনজাঙ্কটিভাইটিস। এই সমস্যায় চোখ লাল হয়ে যায়, জ্বালা হয় এবং চোখ দিয়ে সাদা বা হলদে রঙের স্রাব বের হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ধুলো, ধোঁয়া, অ্যালার্জি বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে এই রোগ হয়। শুরুতে চিকিৎসা না হলে সংক্রমণ আরও গভীরে গিয়ে কর্নিয়ার ক্ষতি করতে পারে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হল ‘ড্রাই আই’। ভেটেরিনারি চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখে স্বাভাবিক পরিমাণে অশ্রু তৈরি না হলে চোখ শুষ্ক হয়ে যায় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ব্রিটিশ ভেটেরিনারি জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু কুকুরের প্রজাতিতে এই সমস্যা বেশিদিন থাকলে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পশুস্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থাগুলির মতে, প্রতিদিন চোখের রঙ, উজ্জ্বলতা এবং স্রাবের পরিমাণ খেয়াল করলে সংক্রমণ দ্রুত ধরা পড়ে। নরম ও পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চোখের কোণ আলতো করে পরিষ্কার করা নিরাপদ। তবে মানুষের চোখের ওষুধ পোষ্যের চোখে ব্যবহার করা বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

খাদ্যাভ্যাসও চোখের স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা পালন করে। ভেটেরিনারি নিউট্রিশন স্টাডি অনুযায়ী, ভিটামিন এ ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের টিস্যু সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সুষম খাবার পোষ্যের চোখের রোগ ভালো রাখতে সাহায্য করে।

পোষ্য যদি আলো সহ্য করতে না পারে, চোখ বন্ধ করে রাখে বা ঘন পুঁজ বের হয়, তবে সেটি সাধারণ সমস্যা নয়। এই লক্ষণগুলি কর্নিয়াল আলসার বা গুরুতর সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে। পশুচিকিৎসকদের মতে, এমন অবস্থায় দেরি না করে চিকিৎসা শুরু করাই দৃষ্টিশক্তি বাঁচানোর একমাত্র উপায়।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker