বাজেটের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় পদক্ষেপ! বাংলায় ২ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে নবান্নে এডিবি

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলায় নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশের একদিনের মধ্যেই রাজ্যের উন্নয়ন ও শিল্পায়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার নবান্নে (Nabanna) রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB)-এর প্রতিনিধিরা। মূল লক্ষ্য, শিল্প, পরিকাঠামো, পরিবহণ, আবাসন এবং পর্যটনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরি করা। সেই কারণেই বাংলায় একাধিক নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সিটি ইকোনমিক রিজিওন (CER) নিয়ে বড় পরিকল্পনা নবান্নে (Nabanna)
সোমবার বিধানসভায় রাজ্যের প্রথম বাজেট পেশ করা হয়। সেখানে শিল্পায়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তার পরদিনই নবান্নে (Nabanna) মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তর সঙ্গে বৈঠকে বসেন এডিবির শীর্ষ কর্তারা। সূত্রের খবর, নীতি আয়োগের রূপরেখা অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত দু’টি ‘সিটি ইকোনমিক রিজিওন’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে এডিবি। এই মডেলে শুধু শহর নয়, তার আশপাশের জেলা, শিল্পাঞ্চল, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং শ্রমবাজারকে একসঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হয়।
এই প্রকল্পের জন্য চারটি সম্ভাব্য অঞ্চল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কলকাতা-কেন্দ্রিক অঞ্চলে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উলুবেড়িয়া ও ডানকুনিকে যুক্ত করে ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিক্স এবং লজিস্টিকস শিল্পের বিকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারকে যুক্ত করে আইটি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, পর্যটন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হলদিয়া-দিঘাকে বন্দরনির্ভর শিল্প ও পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে। দুর্গাপুর-আসানসোল এলাকাকে ভারী শিল্প, ইস্পাত ও ইঞ্জিনিয়ারিং উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আলোচনায় উঠে এসেছে।
শুধু অর্থনৈতিক অঞ্চল নয়, শিল্প করিডোর তৈরির বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে এডিবি। কলকাতা-ডানকুনি-দুর্গাপুর-আসানসোল ম্যানুফ্যাকচারিং করিডোর, হলদিয়া-খড়গপুর শিল্প করিডোর এবং শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াকরণ করিডোর তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
লজিস্টিকস, পরিবহণ ও আবাসনে জোর
পণ্য পরিবহণ আরও দ্রুত ও সস্তা করতে ডানকুনি, শিলিগুড়ি এবং হলদিয়াকে বড় লজিস্টিকস কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে এডিবি। এর ফলে বাণিজ্য ও ই-কমার্স খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া কলকাতার দূষণ কমাতে গণপরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের কথাও বলা হয়েছে। ইলেকট্রিক বাসের সংখ্যা বাড়ানো, শেয়ার্ড পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহণ অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শিল্পাঞ্চলের কাছাকাছি পরিযায়ী শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়ার আবাসন তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছে এডিবি। সেখানে স্কুল, হাসপাতাল এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবার সুবিধাও রাখার কথা বলা হয়েছে।
পর্যটন ও জল সরবরাহ প্রকল্প নিয়েও ভাবনা
পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরির জন্য চারটি বিশেষ ক্লাস্টার গড়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং-ডুয়ার্স-কালিম্পং-তিস্তা সার্কিট, উপকূলীয় এলাকায় দিঘা-মন্দারমণি-তাজপুর, সুন্দরবনে ইকো-ট্যুরিজম এবং কলকাতা-মুর্শিদাবাদ-বিষ্ণুপুরকে নিয়ে হেরিটেজ পর্যটন ক্লাস্টার তৈরির প্রস্তাব উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ যুবশক্তি ভরসার ৩ হাজার টাকা পেতে হলে মানতেই হবে এই শর্ত, বাজেটে বড় ঘোষণা সরকারের
একই সঙ্গে দ্রুত বাড়তে থাকা শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে উন্নত জল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ জলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নদীর জল শোধন করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে ভবিষ্যতে এডিবি বা বিশ্ব ব্যাঙ্কের সঙ্গে আরও আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর (Nabanna)।




