0%

ভারী বৃষ্টিতে সিকিমে ফের ভূমিধস, ভুটান থেকে ঢুকছে জল, বাড়ছে হড়পা বানের আশঙ্কা!

শুক্রবার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হতে সিকিমে ফের ভূমিধসের বিপর্যয়। ভুটানে বিভিন্ন নদী ও ঝোরা উথলে ওঠায় হড়পা বানের পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। সিকিম ও ভুটানে একাধিক রাস্তা অবরুদ্ধ। পাহাড়ে বৃষ্টির জেরে উত্তরের সমতলে বিভিন্ন নদীর জলস্তর বাড়ছে। ভূমিধসের জেরে সিকিমের গুইয়া খোলসায় ইয়াংগাং-সিংতাম সড়ক অবরুদ্ধ হয়েছে। পশ্চিম সিকিমের লেগশিপের কাছে ভূমিধসে রাস্তা ভেসে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। লেগশিপের ওপরের দিকের একটি বাঁকে রাস্তার প্রায় অর্ধেক অংশ ধসে নেমেছে। এলাকাটি বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।

এদিকে ভূমিধসে লাভা-কোলাখাম রোড অবরুদ্ধ হয়েছে। সিকিমে বৃষ্টিপাতের জেরে তিস্তার জলস্তর বেড়েছে। এদিকে শিলিগুড়ি-সিকিম সড়ক যোগাযোগের ‘লাইফ লাইন’ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও তীব্র যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে পর্যটকদের। অনেকেই ঘুরপথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, শুক্রবার রাত থেকে একটানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ভুটানের বিস্তীর্ণ এলাকা। দাওলা খোলা এলাকায় গেলেফু-ত্রংসা মহাসড়ক হড়পা বানের জলে তলিয়ে অবরুদ্ধ হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই রুটে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে ভুটান প্রশাসন। ভুটানের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেট্রোলজি’ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে গেলেফুতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষত বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বেশি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

রাস্তা দিয়ে নামছে জলের ধারা। ছবি-সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্র থেকেও উত্তরের পাচ জেলাকে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রবল। জেলাগুলোতে ‘লাল’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। ওই কারণে পাহাড়ে ভূমিধস ও হড়পা বানের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রবিবার জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রবল।

উত্তর দিনাজপুর জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। প্রশাসনের তরফে নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। নদীতে স্নান ও মাছধরা বন্ধ করা হয়েছে। ভুটানের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেট্রোলজি’-র তরফে শুক্রবার বুলেটিনে জানানো হয়েছে ২৮ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশ জুড়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দক্ষিণ ভুটানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রবল। টানা বৃষ্টিপাতের জেরে দক্ষিণ ভুটানে হড়পা বান এবং ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। সিকিম পাহাড়েও ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে। স্বভাবতই দার্জিলিং-কালিম্পং পাহাড় এবং উত্তরের সমতলের তরাই-ডুয়ার্স ও কোচবিহার জেলার পরিস্থিতি কী দাঁড়াতে পারে সেই উদ্বেগ বাড়ছে।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker