মেখলিগঞ্জ পুরসভা এবার কংগ্রেসের দখলে! চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনি-সহ ৬ কাউন্সিলরের দলবদল

সবদিক নিউজ: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তাসের ঘর ভাঙার খেলা অব্যাহত। কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন পুরসভায় মেয়রের ইস্তফা এবং কাউন্সিলরদের দলবদলের হিড়িকের মাঝেই এবার বড় ধাক্কা এল উত্তরবঙ্গে। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ পুরসভাটি এবার সম্পূর্ণভাবে হাতছাড়া হল তৃণমূল কংগ্রেসের। শুক্রবার কলকাতার প্রদেশ কংগ্রেস সদর দফতর ‘বিধান ভবন’-এ এসে ঘাসফুল শিবির ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিলেন মেখলিগঞ্জের পুরপ্রধান বা চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনি এবং তাঁর সঙ্গী আরও ৬ জন কাউন্সিলর। এই মেগা দলবদলের ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পুরসভাটি এখন সরাসরি কংগ্রেসের দখলে চলে গেল।
শুভঙ্কর সরকারের হাত ধরে ম্যাজিক সংখ্যা পার!
কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পুরসভাটি ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত ছোট হলেও রাজনৈতিকভাবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। মোট ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই পুরবোর্ডে এতদিন একক আধিপত্য ছিল তৃণমূলের। কিন্তু শুক্রবার বিধান ভবনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন তৃণমূলের ৬ জন কাউন্সিলর। অনুষ্ঠানে শুভঙ্কর সরকার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দেবপ্রসাদ রায় এবং বিশ্বজিৎ সরকারের মতো প্রবীণ কংগ্রেস নেতৃত্ব। ৯ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৬ জনই একসঙ্গে দল ছাড়ায় পুরসভায় স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেল কংগ্রেস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
উত্তর জুড়ে গেরুয়া ঝড়, তারই মাঝে কংগ্রেসের কামব্যাক
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার-সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গে বিজেপির জয়জয়কার হয়েছে। রাজ্যজুড়ে সরকার বদলের পর থেকেই দিকে দিকে তৃণমূলের পঞ্চায়েত ও পুরবোর্ডগুলো ভেঙে পড়ছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলররা গণইস্তফা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগরিক পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
ঠিক এই টালমাটাল আবহের মধ্যেই উত্তরবঙ্গের মেখলিগঞ্জে ঘটল উলটপুরাণ। এখানে বিজেপির পালে হাওয়া না লেগে, ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্ব বেছে নিলেন কংগ্রেসকে। চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনি জানান, এলাকার উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাব্বিশের বাংলায় তৃণমূলের এই ধারাবাহিক পতন প্রমাণ করছে যে নিচু তলার কর্মীরা আর কালীঘাট বা আদি তৃণমূল নেতৃত্বের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না। মেখলিগঞ্জের এই হাতবদল আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের পুররাজনীতিতে নতুন কোনও সমীকরণের জন্ম দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।



