যাদবপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক! বার্ষিক স্যালারি ৭,৭৪৪ কোটি, ইলন মাস্কের পরেই তালিকায় শঙ্খ মিত্র

সবদিক নিউজ:বিশ্বের কর্পোরেট দুনিয়ায় ফের একবার গর্বের প্রতীক হয়ে হয়ে উঠল এক বাঙালির নাম। বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত সিইওদের তালিকায় এবার এলন মাস্কের ঠিক পরেই জায়গা করে নিয়েছেন কলকাতার ছেলে শঙ্খ মিত্র (Sankha Mitra)। সম্প্রতি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তরফ থেকে জানা যায় যে, ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া প্রধান নির্বাহীদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তাঁর নাম। বর্তমানে তিনি নামকরা এক মার্কিন রিয়েল এস্টেট সংস্থা ওয়েলটাওয়ারের সিইও। বছরে তাঁর মোট পারিশ্রমিক প্রায় ৮২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকার সমান। এই নজির গড়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্পোরেট জগতে তাঁর এই সাফল্য শুধু বাঙালিদের নয়, গোটা দেশের কাছেই গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
মাস্কের পরেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতনপ্রাপ্তের তালিকায় ২য় স্থানে নাম শঙ্খ মিত্রের (Sankha Mitra)
কলকাতা থেকেই শঙ্খ মিত্রের (Sankha Mitra) সাফল্যের এই পথচলা শুরু হয়েছিল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইনস্ট্রুমেন্টেশন ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপরই তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে কলম্বিয়া বিজনেস স্কুল থেকে অ্যাপ্লায়েড ভ্যালু ইনভেস্টিং বিষয়ে এমবিএ সম্পন্ন করেন তিনি। কর্মজীবনের শুরুতেই বিশ্বের প্রথম সারির বিনিয়োগ সংস্থা সিটাডেল এলএলসি এবং মিলেনিয়াম ম্যানেজমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। আর্থিক বিশ্লেষণ, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কৌশল তৈরিতে তাঁর দক্ষতা দ্রুতই কর্পোরেট মহলে নজর কেড়ে নেয়। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর সাফল্যের ভিত আরও শক্ত করে।
পাকিস্তানে শোয়েব আখতারের ভাইয়ের শেষকৃত্যে হাজির লস্করের ডেপুটি চিফ! ছবি সামনে আসতেই শুরু হইচই
শঙ্খ মিত্র ওয়েলটাওয়ারে যোগ দেন ২০১৬ সালে। মাত্র দু’বছরের মধ্যেই তিনি সংস্থার চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার (সিআইও) পদে উন্নীত হন। এরপর ২০২০ সালে তাঁকে সংস্থার সিইও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের সময় ওয়েলটাওয়ারের লিড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর জেফরি এইচ. ডোনাহু বলেছিলেন, শঙ্খ মিত্রের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত দক্ষতা সংস্থাকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে শঙ্খ নিজেও জানিয়েছিলেন, এই দায়িত্ব পাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের এবং তিনি সংস্থার উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। গত কয়েক বছরে তাঁর নেতৃত্বে ওয়েলটাওয়ারের বাজারমূল্য এবং ব্যবসার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংস্থার আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে শঙ্খ মিত্রের বিপুল পারিশ্রমিকের বেশিরভাগটাই সরাসরি বেতন নয়। এর সিংহভাগ এসেছে স্টক অ্যাওয়ার্ড বা সংস্থার শেয়ারের মাধ্যমে। তাঁকে প্রায় ৭৮৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ার দেওয়া হয়েছিল। সংস্থার শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই সম্পদের মূল্য এখন এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই পুরো অর্থ তিনি এখনই হাতে পাচ্ছেন না। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং কিছু আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার পরই ধাপে ধাপে সেই শেয়ারের মালিকানা তাঁর হাতে আসবে। জানা গিয়েছে, ২০৩১ সাল পর্যন্ত ওয়েলটাওয়ারে দায়িত্বে থাকলে তিনি শেয়ারের একটি বড় অংশ পাবেন। বাকি অংশের জন্য সংস্থাকে বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং আর্থিক পারফরম্যান্স সংক্রান্ত একাধিক লক্ষ্য পূরণ করতে হবে।

‘বিয়ে ভাঙার চেয়ে খুনটা বেশি সহজ ছিল’, কেতন হত্যাকাণ্ডের জেরায় বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি সিয়ার
বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত সিইওদের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান এলন মাস্ক, যার বার্ষিক পারিশ্রমিক প্রায় ১৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরেক কর্পোরেট কর্তা নিকেশ অরোরা, যিনি পালো অলটো নেটওয়ার্কসের সিইও। এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন জর্জ কুর্টজ, হক টন এবং স্টিফেন শোয়ার্জম্যানের মতো কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব। তবে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে শঙ্খ মিত্রের (Sankha Mitra) নাম উঠে আসা নিঃসন্দেহে বাঙালিদের জন্য এক ঐতিহাসিক সাফল্য। কলকাতার একজন ছাত্র থেকে বিশ্বের অন্যতম সফল কর্পোরেট নেতায় পরিণত হওয়ার এই যাত্রা আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।




