0%

যুদ্ধবিরতির মাঝেই বড় ঘোষণা, খুলে গেল হরমুজ় প্রণালী, ইরানের সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে তেল সঙ্কট কাটার আশা

বাংলা হান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আবহে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ় প্রণালী (Strait of Harmuz) খুলে দেওয়ার ঘোষণা করল ইরান। শুক্রবার দেশের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি জানান, সংঘর্ষবিরতি চলাকালীন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির চলাকালীন খোলা থাকবে হরমুজ প্রণালী (Strait of Harmuz), জানাল ইরান

আরাঘচি তাঁর সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় উল্লেখ করেন, লেবাননে চলমান সংঘর্ষবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রাখা হবে। তিনি জানান, এই জলপথের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে থাকবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহের উপর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এবার আর ড্রাইভার নয়, AI চালাবে ট্যাক্সি! ভারতের কোন শহরে চালু হতে চলেছে প্রথম?

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে এই পথ আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রণালী খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে বিভিন্ন দেশ, বিশেষত যারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির উপর নির্ভরশীল।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে ইজরায়েল এবং লেবানন ১০ দিনের জন্য সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমনের আশা তৈরি হয়। যদিও তাঁর প্রাথমিক বিবৃতিতে লেবানন-ভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর উল্লেখ না থাকায় কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন: পর্যাপ্ত সমর্থন নেই! লোকসভায় পাশ করানো গেলো না মহিলা সংরক্ষণ বিল

পরবর্তীতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প হিজবুল্লাহকে সংঘর্ষবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ আচরণের আশা প্রকাশ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর পথে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলছে। তবে পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের উপর।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker