শর্ত পূরণ হলেই সোমবার অনশন ভাঙবেন সোনম ওয়াংচুক, জানালেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো – সবদিক

খবর অনলাইন ডেস্ক: টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা অনশন কর্মসূচি শেষ করতে রাজি হয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে তার আগে তাঁর দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। রবিবার দিল্লি হাই কোর্ট সোনম ওয়াংচুককে সরকারি সফদরজং হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন খারিজ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এই ঘোষণা করেন।
গীতাঞ্জলি আংমোর দাবি, সোমবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহির প্রশ্নটি উত্থাপন করা হবে— এমন আশ্বাস দিতে হবে রাজনৈতিক নেতাদের। পাশাপাশি, তাঁরা সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এই দুটি শর্ত পূরণ হলেই সোমবার অনশন প্রত্যাহার করবেন ওয়াংচুক।
– বিজ্ঞাপন –
সম্প্রতি নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন সোনম ওয়াংচুক। শনিবার সকালে দিল্লির যন্তরমন্তর থেকে তাঁকে জোর করে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করায় দিল্লি পুলিশ।
গীতাঞ্জলির আবেদন খারিজ দিল্লি হাই কোর্টে
রবিবার দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি মিনি পুষ্করণার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করার ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ওয়াংচুক নিজে হাসপাতালে ভর্তি হতে রাজি না হলেও তাঁর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল।
বিচারপতি পুষ্করণা বলেন, এই মুহূর্তে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও জানান, সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ওয়াংচুকের ওপর নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছেন এবং তাঁর সম্মতিতেই মুখে খাওয়ার ওষুধ দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁর ওপর কোনও রকম জোরজবরদস্তি করা হচ্ছে বা তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা লঙ্ঘিত হচ্ছে— এমন অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত আরও জানায়, সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আপাতদৃষ্টিতে স্বেচ্ছাচারী বলা যায় না এবং এতে ওয়াংচুকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়নি।
গীতাঞ্জলি কী আবেদন করেছিলেন
গীতাঞ্জলি আংমো আদালতে আবেদন করেছিলেন যাতে সোনম ওয়াংচুককে গুরগাঁওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর দাবি ছিল, পরিবারের সম্মতি ছাড়াই ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, দীর্ঘদিনের অনশনের কারণে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং তাঁর বিভিন্ন স্বাস্থ্য সূচক ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছিল।
গত ১৬ জুলাই দিল্লি হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রশাসনকে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। প্রয়োজন হলে চিকিৎসার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করে।
এদিকে, রবিবার হাসপাতাল থেকেই একটি বার্তা দেন সোনম ওয়াংচুক। সেখানে তিনি সমর্থকদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ডাকা ২০ জুলাইয়ের মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা
সফদরজং হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাঁর রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্টে সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
হাসপাতাল জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ফলে শরীরের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সেই কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল তাঁর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর সুস্থতার জন্য নিয়মিত চিকিৎসা ও চব্বিশ ঘণ্টা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।



