0%

সাগরের কোল ঘেঁষে লং ড্রাইভ! পুজোর ছুটিতে আপনারই অপেক্ষায় এই বিরল সমুদ্রসৈকত

সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে যাওয়া মানেই গাড়ি থেকে বেশ খানিকটা আগে নেমে পড়ে, খালি পায়ে বালির উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া। পায়ের তলায় ঝিরঝিরে বালির অনুভূতি গিয়ে শেষ হবে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ ছুঁয়ে। তবে রয়েছে এর ব্যতিক্রমও। আসছে পুজোর ছুটিতে হলে কেরলে বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান করে থাকেন, তবে তালিকায় রাখতেই হয় মুঝাপ্পিলাঙ্গাড় সমুদ্রসৈকতের নাম (Durga Puja 2026)।

কন্নুর জেলার থালাসেরির কাছে অবস্থিত এই সৈকত এশিয়ার দীর্ঘতম ড্রাইভ-ইন বিচগুলির অন্যতম। অর্থাৎ, গাড়ি থেকে নামতে হবে না। গাড়ি চাইলেই সরাসরি পৌঁছে যাওয়া যাবে জলের একেবারে কাছে। জানলার কাচ নামিয়ে মুখ বাড়ালে, নোনা জলের ছিটে এসে চোখেমুখে লাগবে।

সৈকতের বালিতে গাড়ি চালানোর অনুমতি ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। এক দিকে ঢেউ, অন্য দিকে খোলা আকাশ— এভাবেই পাড়ি দেওয়া যাবে প্রায় চার কিলোমিটার পথ। প্রশস্ত এই সৈকতে গাড়ির পাশাপাশি বাইক নিয়েও ঘোরেন পর্যটকরা। স্থানীয়দের কাছেও এটি অবসর কাটানোর জনপ্রিয় জায়গা।

মুঝাপ্পিলাঙ্গাড়ে কোনও নির্দিষ্ট ড্রাইভিং ট্র্যাক নেই। প্রবেশপথ দিয়ে সৈকতে ঢুকে, শক্ত বালির উপর ইচ্ছেমত গাড়ি চালানো যায়। তবে যাওয়ার আগে জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নেওয়া জরুরি। ভাটার সময় সৈকতের বেশি অংশ জলের উপরে থাকে এবং বালিও তুলনামূলকভাবে শক্ত থাকে। জোয়ারের সময় বালির বেশ কিছুটা অংশ পিচ্ছিল ও কাদাময় হয়ে থাকে। ফলে অসাবধান হলে গাড়ির চাকা স্কিড করতে পারে। তাই নির্দিষ্ট ট্র্যাক মেনে গাড়ি চালানোর ঝক্কি না থাকলেও, অপটু গাড়ি চালকদের এ কাজ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। সমুদ্রের স্রোতের কারণে সব জায়গায় স্নানও নিরাপদ নয়, তাই স্থানীয় নির্দেশিকা ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলাই ভালো।

Durga Puja 2026: Plan a Seaside Long Drive at Kerala’s Rare Drive-In Beach

সকাল বা বিকেল এই সৈকতে যাওয়ার জন্য আরামদায়ক সময়, সে সময় রোদ কম থাকে। তবে মুঝাপ্পিলাঙ্গাড়ের সৌন্দর্য শুধু ড্রাইভে সীমাবদ্ধ নয়। আরব সাগরের তীরে বিস্তৃত শান্ত এই সৈকতের পিছনে রয়েছে ক্যাসুয়ারিনা গাছের সারি। কাছেই সমুদ্রের মধ্যে রয়েছে ছোট্ট ধর্মদম দ্বীপ। ভাটার সময় অগভীর জল পেরিয়ে সেখানে পৌঁছনো যায় বলে এটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

কাছের থালাসেরি শহরেও ঘুরে দেখা যায় মালাবারের খাবার ও সংস্কৃতির নানা নিদর্শন। বিখ্যাত থালাসেরি বিরিয়ানি, পুরনো বাতিঘর এবং ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপত্য শহরটির ইতিহাসের সঙ্গে পর্যটকের পরিচয় করিয়ে দেয়।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker