0%

সূর্যবংশীর ‘বৈভবে’ মুগ্ধ লক্ষ্মণ, তবু সতর্ক করে বললেন, ‘এক জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন’

ভিভিএস লক্ষ্মণের কোচিংয়ে ‘ডেডলক’ ভেঙেছে শ্রেয়স আইয়ারের টিম ইন্ডিয়া। জিম্বাবোয়েকে চুনকাম করার সিরিজে ঝড় উঠেছে বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে। বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসাবে টি-টোয়েন্টি সিরিজসেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছে ১৫ বছরের এই ক্রিকেটার। বৈভবের (Vaibhav Sooryavanshi) পরিণতবোধ মুগ্ধ করেছে কোচ ভিভিএস লক্ষ্মণকে। তবে প্রশংসার পাশাপাশি বাঁহাতি তারকাকে সতর্কও করে দিয়েছেন।

গৌতম গম্ভীরের অনুপস্থিতিতে জিম্বাবোয়ে সফরে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্বে ছিলেন লক্ষ্মণ। সিরিজ জয়ের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, বৈভবের প্রতিভা অনেক আগেই চিনে ফেলেছিলেন। লক্ষ্মণ বলেন, “আমরা ওকে খুব ভালো ভাবে চিনি। আড়াই বছর আগে, ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আগেই ওর প্রতিভা বুঝে গিয়েছিলাম। বিজয়ওয়াড়ায় একটি প্রতিযোগিতায় ও খেলেছিল। সেখানে সর্বাধিক রান করেছিল।” এর পর থেকেই বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সেলেন্স বিভিন্ন শিবিরে নিয়মিত সুযোগ দেওয়া হয় বৈভবকে। সেই পরিকল্পনারই ফসল বৈভব বলে মনে করেন লক্ষ্মণ।

বাঁহাতি তারকার পরিণতবোধ মুগ্ধ করেছে কোচ ভিভিএস লক্ষ্মণকে। তবে প্রশংসার পাশাপাশি বাঁহাতি তারকাকে সতর্কও করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সিওই-তে অনেকগুলো শিবিরে ওকে ডাকা হয়েছিল। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও সর্বাধিক রান করেছিল। এখন ও আরও পরিণত। আমরা ওকে আরও ভালো ভাবে তৈরি করছি। আগামী দিনে যাতে বৈভব ভারতের সেরা ম্যাচ উইনার হতে পারে, সেই চেষ্টাই করছি।” তবে সিরিজসেরা হলেও এখনও বৈভবকে অনেক উন্নতি করতে হবে বলে মনে করেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার। লক্ষ্মণের কথায়, “গত ছ’মাসে বৈভব যেভাবে পরিণত হয়েছে, তা অসাধারণ। সেই কারণেই কঠিন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে পেরেছে। কঠিন সিরিজে রানও করেছে। তবে এখনও একটা ক্ষেত্রে ওকে উন্নতি করতে হবে। সেটা হল ফিটনেস। ফিল্ডিংয়ে আরও উন্নতি করতে হবে। নইলে দীর্ঘ সময় ধরে খেলতে সমস্যা হবে। ওই একটা দিকেই ওকে বেশি পরিশ্রম করতে হবে।”

একইসঙ্গে ‘বাঁহাতি বিস্ময়’কে ধৈর্য ধরতে বলেছেন লক্ষ্মণ। তাঁর মন্তব্য, “আমাদের এটাও মাথায় রাখতে হবে, বৈভবের বয়স মাত্র ১৫ বছর। এখনও ও বাচ্চা ছেলে। ওকে আরও সময় দিতে হবে।” জিম্বাবোয়ে সিরিজে বৈভবের লড়াকু মানসিকতাও মুগ্ধ করেছে লক্ষ্মণকে। তৃতীয় ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় চোট পেলেও মাঠ ছাড়তে চাইনি তরুণ ক্রিকেটার। এই প্রসঙ্গে লক্ষ্মণ বলেন, “ও প্রতি ম্যাচে উন্নতি করছে। এই ম্যাচেও সেটা দেখা গেল। কঠিন জায়গায় ফিল্ডিং করেছে। চোট পাওয়ার পরেও খেলতে চেয়েছিল। কিন্তু ফিজিও ওকে মাঠ ছাড়তে বলে। এর থেকেই বোঝা যায়, ও লড়াই করতে চায়। মাঠ ছাড়তে চায় না। এই লড়াকু মানসিকতাই ওকে অনেক দূর নিয়ে যাবে।”

একইসঙ্গে ‘বাঁহাতি বিস্ময়’কে ধৈর্য ধরতে বলেছেন লক্ষ্মণ। তাঁর মন্তব্য, “আমাদের এটাও মাথায় রাখতে হবে, বৈভবের বয়স মাত্র ১৫ বছর। এখনও ও বাচ্চা ছেলে। ওকে আরও সময় দিতে হবে।”

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বৈভবের মোট রান ১৫১। গড় ৫০.৩৩। এর মধ্যে দু’টি হাফসেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ৮১। আয়ারল্যান্ড সফরে সুযোগ মেলেনি। ইংল্যান্ডে খেললেও সাফল্য আসেনি। তিন ম্যাচে তার সংগ্রহ ছিল ১৩, ১৪ ও ১৫। সেখান থেকে অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন। ম্যাচের সেরার পাশাপাশি বাঁহাতি তুর্কির ঝুলিতে সিরিজসেরার পুরস্কারও। পুরস্কার হাতে নিয়ে বৈভবের মন্তব্য, “সত্যিই স্বপ্ন পূরণ হল। প্রথমবার ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরার পুরস্কার পেলাম। আমি খুবই খুশি।” তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দেশের জয়ই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে বিহারের সমস্তিপুরের তারকা। সেই সূর্যবংশীর ‘বৈভবে’ মুগ্ধ লক্ষ্মণ। জানিয়েছেন, “সেঞ্চুরি না পাওয়ায় হতাশ হয়েছিল। আমরা ওকে বলেছি, এটা প্রথম বা শেষ সুযোগ নয়। কেরিয়ার অনেক দীর্ঘ।”

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker