0%

হরমুজে ফের শুরু সংঘাত! ট্রাম্পের হুঙ্কারের পরেই একাধিক জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের

বাংলাহান্ট ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। সোমবার অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের (Iran) ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর বিরুদ্ধে। যদিও এই হামলায় কোনও জাহাজে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, কিছুদিন আগেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি  মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেখানে আগামী ৬০ দিন হরমুজ প্রণালী (Starit of Hormuz) দিয়ে সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সেই সমঝোতার পরেও একের পর এক হামলার ঘটনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আদৌ এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে কি না।

ট্রাম্পের হুঙ্কারের পরেই হরমুজে একাধিক জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের (Iran):

বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকলেও সম্পর্কের টানাপোড়েন কমেনি। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে একাধিক দফায় বৈঠক হলেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনও মতবিরোধ বজায় রয়েছে। এই আবহেই ইরানে (Iran) প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য উপলক্ষে দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব একত্রিত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এক জায়গায় উপস্থিত থাকলেও আমেরিকা তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে না, কারণ আলোচনার পথ খোলা রাখাই তাদের উদ্দেশ্য। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আরও পড়ুন: ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় সাফল্য! সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে মাত্র ১০০ দিনে তৈরি UGRAM Battle Rifle

এই মন্তব্যের অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে ফের হামলার অভিযোগ সামনে আসে। এক মার্কিন আধিকারিকের দাবি, ইরানের সেনাবাহিনী অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যখন দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ওই জলপথ অতিক্রম করছিল। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রগুলি সরাসরি জাহাজে আঘাত হেনেছে কি না বা কতটা ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলির উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েকদিন আগেই একটি ভারতীয় তেলবাহী জাহাজও হরমুজ প্রণালীতে হামলার মুখে পড়েছিল। প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী সেই জাহাজটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে জলপথ পার হতে সক্ষম হলেও ঘটনাটি ভারত-সহ একাধিক দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দেয়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। ফলে এখানে যে কোনও ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা হামলার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য এবং শিপিং ব্যবস্থার উপর। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থাগুলি এবং তেল আমদানিকারক দেশগুলি পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকে, তবে আন্তর্জাতিক মালবাহী জাহাজগুলির বিমা খরচ এবং পরিবহণ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

আরও পড়ুন: e-KYC না করা থাকলে বন্ধ হতে পারে বিনামূল্যে রেশন! কীভাবে করতে হয়, কী কী নথি দরকার জানুন

অন্যদিকে, ইরান (Iran) ও আমেরিকার মধ্যে বিরোধের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার নিয়ে নতুন নীতি। ইরান জানিয়েছে, এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলির কাছ থেকে বিশেষ ফি বা চার্জ নেওয়া হবে। কিন্তু শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে ওয়াশিংটন। আমেরিকার দাবি, আন্তর্জাতিক জলপথে একতরফাভাবে টোল বা ফি চাপানো আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নীতির পরিপন্থী। এই ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বহুবার কূটনৈতিক সংঘাত এবং প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ হামলার অভিযোগের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker