২০২৭-এর মধ্যে ৪০ লক্ষ স্মার্ট মিটার বসানোর টার্গেট, বড় ঘোষণা শুভেন্দু সরকারের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : স্মার্ট মিটার নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক থামার নাম নেই। বিভিন্ন জেলায় গ্রাহকদের একাংশের বিক্ষোভ ও আপত্তির মাঝেই প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government)। এদিকে সংসদে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই রাজ্যে বিপুল সংখ্যক স্মার্ট মিটার বসানোর অনুমোদন মিলেছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই প্রথম ধাপের কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য।
স্মার্ট মিটার নিয়ে বড় পরিকল্পনা সরকারের (West Bengal Government)
পশ্চিমবঙ্গে মোট ২ কোটি ১০ লক্ষেরও বেশি স্মার্ট মিটার বসানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী শ্রীপাদ নাইক। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৭ লক্ষ মিটার সাধারণ ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সংযোগে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে ট্রান্সফর্মার এবং ফিডার স্তরেও স্মার্ট মিটার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও প্রকল্পের আকার বিশাল, বাস্তব চিত্র এখনও সেই গতিতে এগোয়নি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৪০ লক্ষ ৩৫ হাজার স্মার্ট মিটার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ছাড়পত্র, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ৭ লক্ষের কিছু বেশি মিটারই বসানো সম্ভব হয়েছে। ফলে অনুমোদিত প্রকল্পের তুলনায় কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩.৩৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ। স্মার্ট মিটার প্রকল্পে বিধাননগরে প্রায় ২ লক্ষ ৮৯ হাজার এবং হুগলিতে প্রায় ১ লক্ষ ৯২ হাজার মিটার বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই দুই এলাকাতেও কাজ এখনও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, বিধাননগরে এখনও পর্যন্ত ১৪.৬৯ শতাংশ এবং হুগলিতে ১৮.৪১ শতাংশ মিটার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল,”যেসব প্রকল্পের টেন্ডার ও বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে, সেগুলির অধীনে থাকা ৪০ লক্ষ ৩৫ হাজার স্মার্ট মিটার ২০২৭ সালের নভেম্বরের মধ্যেই বসিয়ে দেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন : অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিল আপের কতদিনের মধ্যে মিলবে টাকা? নতুন আপডেট জানুন
উল্লেখ্য, স্মার্ট মিটার চালু হলে বিদ্যুতের বিল বেড়ে যেতে পারে—এই আশঙ্কা তুলে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গ্রাহক সংগঠনগুলির আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ থেকে শুরু করে প্রতিবাদ কর্মসূচিও হয়েছে। তবে সেই বিরোধিতার মধ্যেও প্রকল্পের গতি থামাতে রাজি নয় প্রশাসন। কেন্দ্রের বক্তব্যে স্পষ্ট, নির্ধারিত সময়সীমা মেনে প্রথম ধাপের কাজ শেষ করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী দিনে সেই লক্ষ্য কতটা পূরণ হয়, তার দিকেই নজর থাকবে বিদ্যুৎ দফতর এবং সাধারণ গ্রাহকদের।




