0%

১৩ বছর পর হাওড়ায় পুরভোট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, ফের দুর্নীতির ফাইল খোলার হুঙ্কার শুভেন্দুর

সবদিক নিউজ: ২০১১ সালে রাজ্যে শেষবারের মতো গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত বোর্ড গঠন হয়েছিল হাওড়া পুরনিগমে। এরপর দীর্ঘ আট বছর ধরে কোনও নির্বাচিত পুরবোর্ড ছিল না এই গুরুত্বপূর্ণ শহরে। পুরপ্রশাসক বসিয়ে কোনও রকমে কাজ চালানো হচ্ছিল, যা নিয়ে হাওড়ার আমজনতার ক্ষোভ ছিল চরমে। বৃহস্পতিবার সেই দীর্ঘ টালবাহানার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দেন, “চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া পুরনিগমে নির্বাচন সম্পন্ন করতে আমরা আশাবাদী।” তবে শুধুমাত্র নির্বাচনই নয়, ভোটের আগে হাওড়া পুরসভার ভৌগোলিক সীমানা ও ওয়ার্ডগুলির পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন (Delimitation) করা হবে বলেও নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে।

কাজ না করে বেতন নেওয়ার মেগা কেলেঙ্কারি!

ভোট ঘোষণার পাশাপাশি বিগত তৃণমূল জমানায় হাওড়া পুরসভায় ঘটে যাওয়া একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অল-আউট তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “হাওড়া পুরসভায় বর্তমানে প্রায় ১,৭০০ জন অস্থায়ী কর্মী কাজ করেন। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে যে, তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন কর্মী কোনও কাজ না করেই প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে মোটা অঙ্কের বেতন তুলে নেন।”

দুর্নীতির উৎস খুঁজতে বসছে বিশেষ তদন্ত কমিটি

মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক দাবির পর নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, এই ভুয়ো কর্মী বা ‘ঘোস্ট এমপ্লয়ি’ চক্রের নেপথ্যে বিগত পুরবোর্ড ও শাসকদলের কোন কোন প্রভাবশালী নেতা যুক্ত ছিলেন, তা খুঁজে বের করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে এবং কীভাবে কাজ না করেই বছরের পর বছর বেতন দেওয়া হল, তার প্রতিটি নথির ফরেনসিক ও ফিনান্সিয়াল অডিট করা হবে। নতুন সরকারের এই সাঁড়াশি আক্রমণের জেরে পুরসভার অন্দরে এখন তীব্র আতঙ্ক। রাজনৈতিক মহলের মতে, ডিসেম্বরের ভোটের আগে এই মেগা দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করে হাওড়ায় বিরোধী শিবিরকে রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি কোণঠাসা করাই শুভেন্দু অধিকারীর মূল লক্ষ্য।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker