বদলে গেল ৪৭ বছরের আইন! লাক্ষাদ্বীপে মদ বিক্রির অনুমতি, কেন এমন সিদ্ধান্ত?

সবদিক নিউজ:লাক্ষাদ্বীপে (Lakshadweep) প্রায় পাঁচ দশক পুরনো মদ বিক্রির নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে নতুন সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এবার থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানের মাধ্যমে মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ৫ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইনের ফলে ১৯৭৯ সাল থেকে চালু থাকা পুরনো বিধিনিষেধের অবসান ঘটল। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই লাক্ষাদ্বীপকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় সমুদ্র পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। সেই লক্ষ্য পূরণে মদ বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা উদার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পর্যটনের খাতিরে লাক্ষাদ্বীপে (Lakshadweep) মদ বিক্রির অনুমতি দিল কেন্দ্র
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ভারতের অন্যান্য জনপ্রিয় সমুদ্র পর্যটন কেন্দ্রের তুলনায় লাক্ষাদ্বীপ (Lakshadweep) পর্যটকদের কাছে এখনও অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রয়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে মদের সীমিত প্রাপ্যতাকে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অনেকের দাবি, বিদেশি ও দেশি পর্যটকদের একটি বড় অংশ এমন পর্যটন কেন্দ্র বেছে নেন যেখানে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় বিনোদন ও আতিথেয়তার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা উপলব্ধ থাকে। সেই কারণেই লাক্ষাদ্বীপে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে নতুন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের আশা, এর ফলে পর্যটক সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কিছু হলেই পরমাণু যুদ্ধের হুমকি! সেই পাকিস্তানেই এক বছরে তৈরি হল না একটাও পারমাণবিক হাতিয়ার
লাক্ষাদ্বীপকে ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহ বৃদ্ধির পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০২৪ সালের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই সফরে প্রধানমন্ত্রীকে দ্বীপপুঞ্জের সমুদ্রসৈকত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থানীয় সংস্কৃতি উপভোগ করতে দেখা যায়। সফরের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এরপর থেকেই দেশজুড়ে লাক্ষাদ্বীপ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে যেখানে পর্যটকের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ হাজার ৮৭৫, সেখানে ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৬৮ হাজার ৩২৮-এ পৌঁছে যায়। মোদির সফরের পর সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। ক্রমবর্ধমান পর্যটক চাহিদার কথা মাথায় রেখেই নতুন নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের সামাজিক ও ধর্মীয় দিকও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, লাক্ষাদ্বীপের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৭ শতাংশই মুসলিম। দেশের অন্য কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মুসলিমদের এত বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাই তপসিলি উপজাতিভুক্ত। ইসলাম ধর্মে মদ্যপান নিষিদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনা করেই অতীতে মদ বিক্রির উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সেই কারণেই লাক্ষাদ্বীপ দীর্ঘদিন ধরে গুজরাট, বিহার এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি অঞ্চলের মতো ‘ড্রাই’ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল।

পবিত্র কাশীধামে নতুন আকর্ষণ! তৈরি হচ্ছে বিশ্বের উচ্চতম শিবলিঙ্গ, রয়েছে আরও চমক
তবে বাস্তবে এই নিষেধাজ্ঞা কখনও সম্পূর্ণ সর্বব্যাপী ছিল না। পর্যটন শিল্পের স্বার্থে এবং কিছু সরকারি প্রয়োজনে সীমিত ক্ষেত্রে মদ্যপানের অনুমতি আগে থেকেই ছিল। বিশেষ করে কাভারাত্তি ও বাঙ্গারাম দ্বীপের নির্দিষ্ট রিসোর্টগুলিতে পর্যটক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা ছিল। নতুন আইনের ফলে সেই সীমাবদ্ধতা আরও কিছুটা শিথিল হলো। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মদ বিক্রি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যবস্থার মাধ্যমেই তা পরিচালিত হবে। পর্যটন বিকাশ ও স্থানীয় সংস্কৃতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এই নতুন নীতির প্রধান লক্ষ্য বলে দাবি কেন্দ্রের (Lakshadweep)।




