0%

অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েছিলেন দেবরাজ! STF ও বিধাননগর পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার

সবদিক নিউজ: কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ ও জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই হন্যে হয়ে তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। শেষমেশ মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ও প্রযুক্তিগত নজরদারির ফাঁদে পড়ে শ্রীঘরে যেতেই হল বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীকে। বুধবার পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলি এলাকার একটি হোটেল থেকে গায়িকা তথা প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্রি স্বামী দেবরাজকে যৌথভাবে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ (STF) এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। বৃহস্পতিবারই তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় এনে আদালতে তোলা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাইকোর্টে আইনি ধাক্কা খাওয়ার পর থেকেই দেবরাজ নিজের চেনা পরিধি ছেড়ে পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি ও অযোধ্যা পাহাড় এলাকায় গা ঢাকা দিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী তৃণমূল নেতৃত্বের সাহায্যে একটি হোটেলে লুকিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) তাঁর গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছিল। বুধবার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলতেই দুই বাহিনীর একটি বিশেষ টিম যৌথ হানা দিয়ে দেবরাজকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। উল্লেখ্য, কেষ্টপুরের এক নামী প্রোমোটার অভিজিৎ সাহা বাগুইআটি থানায় দেবরাজের বিরুদ্ধে তোলাবাজির গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, যার ভিত্তিতেই এই তদন্ত শুরু হয়।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। বিধাননগর, রাজারহাট ও নিউটাউন এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ চালানো, প্রোমোটারদের থেকে কোটি কোটি টাকা তোলাবাজি, বেআইনি জমির কারবার ছাড়াও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রক্তক্ষয়ী হিংসার মামলাতেও তিনি সিবিআই ও পুলিশের খাতায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। এছাড়া দেবরাজ ও তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে অন্তত ১০০ কোটি টাকার আয় বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জন এবং বেআইনিভাবে অর্থপাচারের (Money Laundering) মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে।

যুব তৃণমূল কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করলেও দেবরাজের পথচলা ছিল বেশ নাটকীয়। ২০১৩ এবং ২০১৫ সালের পুরভোটে তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন এবং কংগ্রেসের টিকিটে বিধাননগরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর জেতেন। পরবর্তীতে অবশ্য ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর। বিয়ের পর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকে রাজনীতিতে এনে ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক করেন তিনি। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও তোলাবাজির যে সাম্রাজ্য তিনি গড়ে তুলেছিলেন, হাই কোর্টের রক্ষাকবচ উঠতেই তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি ঘিরে বর্তমানে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker