0%

সেবাশ্রয় নিয়ে বিতর্কে অভিষেক, কুণাল ঘোষের মন্তব্যে স্পষ্ট হল ‘তৃণমূল’-এর অবস্থান

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিতর্কে নাম জড়িয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি। স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া এই উদ্যোগকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। এই আবহে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অভিষেকের সেবাশ্রয় প্রসঙ্গে কুণাল (Kunal Ghosh)

শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে সেবাশ্রয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “সেবাশ্রয় সম্পর্কে আমি বলতে পারব না। সেবাশ্রয় সম্পর্কে আমার কোনও কালেই কোনও ধারণা নেই। ওটা পার্টির অফিসিয়াল প্রোগ্রাম বলেও আমি জানি না। কোনও সাংসদ, বিধায়ক বা কেউ মানুষের সেবা করার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের সেবা করার জন্য প্রোজেক্ট নিতেই পারেন। সেটা তাঁরা বলতে পারবেন।”

শুধু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। বিষয়টি সম্পর্কে নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করতে গিয়ে বলেন, “সেবাশ্রয়ের কোনও দিকটাই জানি না। ব্যাপারটার সঙ্গে আমি পরিচিত নই। এটা দলের কোনও অফিসিয়াল প্রোগ্রাম হলে, তাও আমি খোঁজ নিয়ে বলার চেষ্টা করতাম। এটা কোনও সাংসদ তাঁর এলাকায় মানুষকে কিছু সাহায্য করার জন্য কিছু প্রোগ্রাম করে থাকলে তাঁরাই বলতে পারবেন। আমি বলতে পারব না। বিশেষজ্ঞরা ওটার দায়িত্বে ছিলেন। আমাদের মতো সাধারণ শ্রমজীবী লোক তো দায়িত্বে ছিল না। ফলে বিশেষজ্ঞরাই বলতে পারবেন।”

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় প্রথমবার ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি চালু করা হয়। প্রায় আড়াই মাস ধরে চলা এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে একই বছরের ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয় দফায় এই কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়িয়ে নন্দীগ্রামেও স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন করা হয়। তবে নন্দীগ্রামে এই শিবির বসানো নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক ছিল।

সরকার বদলের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি সেবাশ্রয় কর্মসূচির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের দিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করানো হয়েছে। পাশাপাশি মেডিক্যাল পড়ুয়াদের দিয়েও রোগী দেখানোর অভিযোগ তোলা হয়। এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা এক চিকিৎসকও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আনেন। তাঁর দাবি, শিবিরে কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক এমবিবিএস চিকিৎসক ছিলেন।

আরও পড়ুন :উত্তরবঙ্গের মানুষকে বড় স্বস্তি, উত্তরকন্যা নিয়ে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য দফতর ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, তা এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে কুণাল ঘোষের মন্তব্যও রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker