NEET আন্দোলন নিয়ে বড় রায়! আটক পড়ুয়াদের মুক্তির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

AK Bangla Desk: দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলা নিট (NEET) আন্দোলন এবং তা দমন করতে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশ জুড়ে বিক্ষোভ চলাকালীন যে সমস্ত আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও রকম দমনমূলক নীতি প্রয়োগ করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। শুধু তা-ই নয়, যাঁদের বিরুদ্ধে পূর্বে অপরাধের কোনও ইতিহাস নেই, সেই সব নাবালক বিক্ষোভকারীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের নামে অশান্তির ঘটনায় একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছে আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি জে ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার জরুরি শুনানি হয়। শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত কঠোর ভাষায় পর্যবেক্ষণ পেশ করে জানায়, কারা প্রকৃত দোষী তা নির্দিষ্ট না করে ঢালাও তদন্তের কোনও অর্থ হয় না। তবে সীমানা লঙ্ঘনকারী যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনায় কেন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হবে না, সেই প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিতও দিয়েছে বেঞ্চ।
ঘটনার জল গড়িয়েছে গত ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ অভিযানকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, সেদিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের হটানো পর্যন্ত ক্ষান্ত না থেকে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে, কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় এবং এমনকি পেলেট গানও ব্যবহার করে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল, যার একত্র শুনানি ছিল মঙ্গলবার। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ওই আন্দোলনের সময়কালের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন রেকর্ডিং এবং পুলিশ অফিসারদের বডি ক্যামেরার যাবতীয় তথ্য সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের ব্যক্তি পরিচয় ও তথ্য যাতে কোনওভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ও পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্র ছাড়াও অসম, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং কেরল সরকারের কাছে জবাবদিহি চেয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ছাত্রছাত্রীরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান আন্দোলনের গতিপথ কোন দিকে মোড় ঘোরায়, সেটাই এখন দেখার।



